ওজন ১.২২ ক্যারেট, ছত্তিশগড়ের খনিতে মিলল একসাথে পাঁচ-পাঁচটি বহুমূল্য হীরে

Published:

Chhattisgarh Diamond Discovery

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের খনিজ সম্পদের মানচিত্রে এবার বিরাট আবিষ্কার। ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলায় অনুসন্ধানের সময় উদ্ধার হল একসঙ্গে পাঁচ-পাঁচটি হীরে (Chhattisgarh Diamond Discovery), যার মোট ওজন ১.২২ ক্যারেট। এর মধ্যে দুটি হিরে জ্যাম কোয়ালিটি বা রত্নমানের হীরে হওয়ার কারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জানা গিয়েছে, মহাসমুন্দ জেলার সারাইপলি এলাকায় বলোদা বেলমুন্ডি ডায়মন্ড ব্লকে এই সাফল্য মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ের অনুসন্ধানেই এরকম মানের হীরে পাওয়ার কারণে ইঙ্গিত মিলছে যে এলাকায় আরও বড় হীরের ভাণ্ডার থাকতে পারে।

ছত্তিশগড়ে মিলল হীরের সন্ধান

উল্লেখ্য, এই অনুসন্ধানের দায়িত্ব ছিল এনএমডিসি এবং ছত্তিশগড় মিনারেল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগের সংস্থা NMDC-CMDC লিমিটেড। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকাটিকে সম্ভাবনাময় হীরের সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তারপরেই সেখান থেকে নদীর পলি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং পরীক্ষা করা হয়। এমনকি প্রায় ৫০০ মিটার অনুসন্ধান মূলক ড্রিলিং করা হয়। তারপর প্রায় ২০০ টন খনিজ পদার্থ সংগ্রহ করে মধ্যপ্রদেশের পান্নায় অবস্থিত এনএমডিসি-র ডায়মন্ড প্রসেসিং প্ল্যান্টে পাঠানো হয়েছিল। সেখানেই প্রক্রিয়াকরণের পর পাঁচটি হীরে উদ্ধার হয়।

সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া পাঁচটি হীরের মধ্যে দুটি সাদা রঙের জেম কোয়ালিটির হীরে রয়েছে, যার ওজন যথাক্রমে ০.১৯ ক্যারেট এবং ০.০৬ ক্যারেট। অন্যদিকে একটি শিল্পমানের হীরে রয়েছে, যার ওজন ০.৩২ ক্যারেট। আর দুটি বাদামী রঙের শিল্পমানের হীরে রয়েছে, যার ওজন যথাক্রমে ০.৫৯ ক্যারেট এবং ০.০৬ ক্যারেট। রত্নমানের হীরে সাধারণত গয়না তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। কারণ এগুলোর উজ্জ্বলতা এবং সৌন্দর্য অনেকটাই বেশি। আর শিল্পমানের হীরে কাটিং বা ড্রিলিং এর মতো কাজে ব্যবহার করা হয়।

খনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও অঞ্চলে বড় আকারের হীরের ভান্ডার রয়েছে কিনা তা বোঝার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রাথমিক পর্যায়ের নমুনা সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বড় হীরে উৎপাদনকারী অঞ্চল প্রথমে এরকম ছোট আকারের আবিষ্কারের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়েছিল। তাই মহাসমুন্দ এর এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে আরও বড় অনুসন্ধানের পথ তুলতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন: আর হকার-ভিখারিদের দাপাদাপি নেই ট্রেনে! রেলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে যাত্রীরা

এ আবিষ্কারকে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দে সাই রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলেই উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা ছত্তিশগড়ের খনিজ সম্পদের সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।