সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, রেজিস্ট্রেশন বা একাধিক পরিবহন সংক্রান্ত পরিষেবা এবার আরও সহজ করার জন্য বিরাট উদ্যোগ নিচ্ছে পরিবহণ দফতর। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আঞ্চলিক পরিবহন দফতরের বহু পরিষেবা এবার অটো অ্যাপ্রভাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে। যার ফলে আবেদনকারীদের আর ছোটখাটো কাজের জন্য বারবার আরটিও অফিসে (RTO Office) ছোটা লাগবে না। অনলাইনে আবেদন করলেই মিলবে পরিষেবা। যদিও প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক উপায়ে একটি জেলায় তা চালু করে পরিকল্পনা রয়েছে। সফল হলে অন্যান্য এলাকায় সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
কোন কোন পরিষেবা মিলবে অনলাইনে?
নতুন এই ব্যবস্থায় ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যানবাহন রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে গাড়ির মালিকানা ট্রান্সফার, নাম পরিবর্তন, উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানার পরিবর্তন, মৃত্যুজনিত মালিকানা পরিবর্তন, বিভিন্ন রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত আবেদন ইত্যাদি। তবে প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে আপলোড করার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলে তবেই আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে।
পরিবহন দফতরের দাবি, নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে আরটিও অফিসে অযথা ভিড় কমবে, এবং দালাল চক্রের প্রবণতা অনেকটা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে আধার, প্যান, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি নথির মাধ্যমে ডিজিটাল যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ওটিপি শুধুমাত্র আবেদনকারীর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরেই পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: দেশের একমাত্র শব্দ সংগ্রহশালার উদ্বোধন কলকাতায়, ‘বাংলা’র প্রসার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি
গাড়ির মালিকানা বদল হবে আরও সহজ
তবে নতুন ব্যবস্থায় সবথেকে বড় সুবিধা মিলতে পারে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে। এর জন্য বিশেষ সফটওয়্যার বা বিটা ভার্সন তৈরি করা হচ্ছে। যদি সমস্ত নথি সঠিকভাবে জমা পড়ে তাহলে অনেক ক্ষেত্রে আলাদা করে অফিসে গিয়ে অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না। এছাড়াও এনওসি ইস্যুর ক্ষেত্রে পুলিশের তথ্য ভাণ্ডারের সঙ্গে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি থাকবে। তাছাড়াও লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারীদের ট্রাফিক নিয়ম সংক্রান্ত যে ভিডিও দেখতে হয় সেটার সময় আমার আরও কমানো হতে পারে। বর্তমানে প্রায় ২০ মিনিটের একটি ভিডিও দেখতে হয়। পরবর্তীতে সেটি ৫ মিনিটে সীমাবদ্ধ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এমনকি এটি বাধ্যতামূলক না রেখে বিকল্প হিসেবে রাখার বিবেচনা করা হচ্ছে।










