ফের উস্কে গেল ২১০ বছরে পুরনো লিপুলেখ বিবাদ, ভারতের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের দরবারে নেপাল!

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: লিপুলেখ নিয়ে ভারত এবং নেপালের মধ্যেকার বিবাদ ( India-Nepal Problem) আজকের নয়। সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ লিপুলেখ সহ কালাপানির মতো বেশ কিছু জায়গাকে নেপালের অংশ হিসেবে দাবি করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, সম্প্রতি নেপালের সংসদে দাঁড়িয়ে সে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী একপ্রকার গলা উঠিয়ে বলেছিলেন, ভারত এবং নেপাল উভয় দেশই একে অপরের জমি দখল করে রেখেছে! উল্লেখযোগ্য বিষয়, লিপুলেখ নিয়ে ভারতের সাথে থাকা বিবাদ প্রসঙ্গে এবার ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চাইতে চলেছেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী!

ভারত এবং নেপালের বিবাদে হস্তক্ষেপ করবে ব্রিটেন?

সম্প্রতি ভারতের সাথে সম্পর্কের বরফ গলতেই পুনরায় মনোস সরোবর যাত্রার জন্য পথ খুলে দিয়েছে চিন। আর সেই পবিত্র যাত্রা নিয়েই সম্প্রতি আপত্তি প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে নেপালকে। আসলে মানোস সরোবর যাত্রা হয়ে থাকে মূলত লিপুলেখ গিরিপথ দিয়ে। আর এই অঞ্চলটিকেই নেপাল নিজেদের এলাকা বলে দাবি করছে। যদিও ভারতের তরফে নাকি একেবারে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, নেপালের এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভারত এই ধরনের দাবিকে একেবারেই মান্যতা দেয় না।

বলাই বাহুল্য, ভারত এবং নেপালের মধ্যে লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে বিবাদ 1816 সাল থেকে চলে আসছে। আসলে এই গিরিপথ যেহেতু ভারত-চিন এবং নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন ফলে এই অঞ্চলে নজর রয়েছে উভয় প্রতিবেশীর। এই অংশ যেহেতু উত্তরাখণ্ডের ধারচুলাকে তিব্বতের পুরং এর সাথে যুক্ত করেছে ফলে ভারতের কাছে কৌশলগতভাবে এই এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়েই ভারত এবং চিনের ব্যবসা পরিচালিত হয়ে এসেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে এই পথ অবরুদ্ধ থাকলেও আবারও চালু হয়েছে সেই রাস্তা।

অবশ্যই পড়ুন: T20 স্কোয়াডে জায়গা পেলেন বিরাট, বাদ শুভমন! ওপেনিংয়ে বৈভব

কয়েকটি রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ভারত এবং নেপালের মধ্যেকার লিপুলেখ বিবাদ যেহেতু ব্রিটিশ আমলের মূলত সে কারণেই প্রতিবেশীর সাথে বিবাদ প্রসঙ্গে গোটা বিষয়টি এবার ব্রিটেন সরকারের কাছে উত্থাপন করতে পারেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত নেপালের অনুরোধ মেনে ব্রিটেন বা ব্রিটিশ সরকার যদি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর নালিশ শুনে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে যায় তবে তা ভারত, নেপাল এবং সর্বোপরি ব্রিটেনের জন্য বড়সড়ো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

google button