ভারতীয় নৌসেনা পেল ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ, জলে নামল INS মহেন্দ্রগিরি

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সমুদ্রপথে আরও শক্তিশালী ভারত। এবার ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) হাতে এল ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রবাহী স্টেল্‌‌থ ফ্রিগেট INS মহেন্দ্রগিরি (INS Mahendragiri)। আজ অর্থাৎ শনিবার, ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সদর দপ্তরে বিশেষ কর্মসূচির অধীনে ভারতীয় নৌবাহিনীর ঘরে আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গা পেয়েছে অত্যাধুনিক এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধজাহাজটি। এদিন এই বিশেষ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং নিজে।

ভারতের নতুন যুদ্ধজাহাজ সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য

প্রথমেই বলে রাখি, INS মহেন্দ্রগিরি, ভারতীয় নৌসেনার ষষ্ঠ প্রজন্মের স্টেলথ ফ্রিগেট। মূলত ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এই যুদ্ধজাহাজ তৈরি হয়েছে প্রজেক্ট 17 আলফা কর্মসূচির অধীনে। ভারতীয় সামরিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মহেন্দ্রগিরি খুব সহজেই শত্রুপক্ষের নজরদারি ফাঁকি দিতে সক্ষম।

যে কথা না বললেই নয়, এই যুদ্ধ জাহাজের নিজস্ব গোত্রের আগের প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ INS দুনাগিরিকে গত 21 জুন কলকাতায় গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স এর হাত ধরে ভারতীয় নৌসেনাকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে নয়া যুদ্ধজাহাজ অর্থাৎ ষষ্ঠ প্রজন্মের INS মহেন্দ্রগিরি তৈরি করেছে মুম্বইয়ের মাজগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড।

বলাই বাহুল্য, গত 30 এপ্রিল, আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরের বুক কাঁপিয়ে এই ষষ্ঠ প্রজন্মের INS মহেন্দ্রগিরি যুদ্ধ জাহাজের সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল ভারত। তারপর অবশেষে জুলাই মাসে ভারতীয় নৌবাহিনীর কমিশন পেল এই যুদ্ধজাহাজ। রিপোর্ট অনুযায়ী, 75 শতাংশের বেশি দেশীয় উপাদান এবং 200 এর বেশি সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার অবদানের ফল ভারতীয় নৌবাহিনীর ষষ্ঠ প্রজন্মের এই যুদ্ধজাহাজ। যা শত্রু দমনে ভারতীয় নৌসেনার জন্য অন্যতম বড় শক্তি হতে চলেছে।

অবশ্যই পড়ুন: দু’বছর পর ফের চালু হতে পারে মৈত্রী এক্সপ্রেস, ভারতের কাছে আবেদন বাংলাদেশের

প্রসঙ্গত, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, স্টেল্‌থ ফ্রিগেটের পাশাপাশি আগামী 2027 সালের মধ্যে ভারতীয় নৌসেনের ঘরে 200 এর বেশি বিভিন্ন উন্নত শ্রেণীর যুদ্ধজাহাজ মজুত করাই নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই সূত্রেই এইসব যুদ্ধজাহাজের বেশিরভাগই তৈরি হচ্ছে কলকাতা, মুম্বই কোচি সহ দেশের বিভিন্ন ডক ইয়ার্ডে। সবচেয়ে বড় কথা এই যুদ্ধ জাহাজগুলির প্রতিটিই তৈরি হবে দেশীয় প্রযুক্তিতে।