প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা তুলতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ এক দিনমজুর পরিবারের গৃহবধূর! ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পরে রয়েছে নাকি ৭৪০ কোটি টাকা! ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar)। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে মাথায় হাত পড়ে গ্রামবাসীর। কীভাবে এত টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকল তা নিতে আলোচনা করতেই তদন্তে নামে পুলিশ। আর তারপরেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য।
দিনমজুরের অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার হদিস!
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে, জটেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার কড়াইবাড়ি গ্রামের। সেখানকার বাসিন্দা গৃহবধূ শম্পা বর্মণ ধুলাগাঁওয়ের একটি কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। আর সেখানেই ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট চেক করতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৭৪০ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকারও বেশি। আর তাই দেখে রীতিমত চক্ষু চড়কগাছ গৃহবধূর। দরিদ্র পরিবারে এত টাকা কীভাবে এল? তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে কিনা এই নিয়ে একাধিক প্রশ্ন নিয়ে এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য বিজয় ওরাওকে বিষয়টি জানান ওই মহিলা। হইচই পরে যায় গ্রাম জুড়ে।
প্রকাশ্যে এল আসল সত্য
দিন আনা দিন খাওয়া ওই গৃহবধূর অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্টে এমন অঙ্ক দেখে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পরে সকলে। এর নেপথ্যে কোনও আর্থিক প্রতারণার চাল রয়েছে কি না, তাই নিয়ে বাড়তে থাকে সন্দেহ। এমনকি সেই আতঙ্ক নিয়েই গৃহবধূর বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। এরপর ফের ওই মহিলাকে নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হন তদন্তকারীরা। পরে ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়, তাঁর ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স রয়েছে মাত্র ২১৬ টাকা। কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টের রসিদে যে টাকার অঙ্ক দেখিয়েছিল সেটি আসলে ১০ সংখ্যার একটি ফোন নম্বর। অর্থাৎ স্টেটমেন্টে দেখা বিপুল অঙ্কের সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিলই নেই। পুলিশ সেই নম্বরে যোগাযোগ করে জানতে পারে, যে সেটি কেরালার একটি নম্বর।
আরও পড়ুন: বারুইপুর গণপিটুনি কাণ্ডে গ্রেফতার আরও ৩, আজই ইন্দ্রজিতের বাড়ি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের অনুমান, আসলে ব্যাংকিং কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স হিসেবে ১০ সংখ্যার ফোন নম্বর ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টে প্রিন্ট হিসেবে বেড়িয়েছে। আর তাই ১০ সংখ্যার নম্বরটিই কোটি টাকার অঙ্ক বলে মনে হয়েছিল। এই সত্যটা জেলা পুলিশ সুপার অমিত কুমার প্রকাশ্যে আনতেই গৃহবধূর পরিবার সহ গোটা গ্রাম নিশ্চিন্ত হয়। যদিও প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকলেও আজকাল এমন প্রতারণা হামেশাই দেখা যাচ্ছে। তাই ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে কড়া নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।










