সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে আবারও একবার বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনিতে যত সময় এগোচ্ছে ততই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কিছু মহিলা টাকা পেয়েছেন, আগামী দিনে কয়েকজন পাবেন তো কয়েকজনের নামই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। তাহলে কি আর টাকা পাবেন না তাঁরা? ৩০০০ টাকা মিলবে না? এরকম নানা প্রশ্নের মধ্যেই বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি যা আশ্বাস দিলেন তা কিছুটা হলেও অক্সিজেনের ন্যায় কাজ করবে আবেদনকারীদের জন্য।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
শনিবার মুর্শিদাবাদের এক সভা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে যে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে, মহিলাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে তা নিয়ে বড় কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানালেন, যারা যোগ্য তাঁরা এই টাকা পাবেনই, কেউ বঞ্চিত হবে না। যদিও অন্যদিকে এই ৩০০০ টাকা অযোগ্যরা কোনওভাবেই পাবেন না, সেটাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে সরকারি পোর্টালে গেলেই দেখা যাবে কার স্ট্যাটাস কেমন আছে। কারোর পেমেন্ট ইস্যু, তো কারোর আবেদন বাতিল দেখাচ্ছে তো কারোর আবার ভেরিফিকেশন চলছে বলে খবর।
এদিকে রেজিনগরের সভা থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলাকে দিয়েছি। এই প্রক্রিয়া ৩০.০৮.২০২৬ পর্যন্ত চলবে। ভেরিফেকশন হবে। প্রতিটা যোগ্য প্রাপক টাকা পাবে। অযোগ্যরা বাতিল হবে। একজনও প্রকৃত দিদি-বোন বাদ যাবে না।’ সভা থেকে আলাদা করে তুলে আনেন মুর্শিদাবাদের পরিসংখ্যানও। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই জেলায় ১৫ লক্ষ দিদি-বোন আবেদন করেছিল। আমরা বর্ণ-ধর্ম-দলমত নির্বিশেষে ১২ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার করে টাকা ১ জুলাই দিয়েছি।’
আরও পড়ুনঃ বাংলায় কৃষকবন্ধুর ভেরিফিকেশন শুরু, দিতে হবে আইডি! কোথায় পাবেন আর কী কী লাগবে?
নতুন পদক্ষেপ সরকারের
মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দমন করতে রাজ্য সরকার বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। আবেদনপত্র বাতিল হওয়া নিয়ে ব্যাপক অভিযোগের সমাধান করতে রাজ্য সরকার অন্নপূর্ণা যোজনা পোর্টালে একটি ‘Edit’ বিকল্প চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সুবিধার ফলে, যেসব আবেদনকারীর আবেদনপত্র বাতিল হয়েছে, তারা নতুন করে আবেদন না করেই ভুল সংশোধন করতে এবং তথ্য আপডেট করতে পারবেন। অ্যাগত সপ্তাহে এক বৈঠকে মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল জানান, এই প্রকল্পের অধীনে সরকার ১.৬ কোটি আবেদনপত্র পেয়েছে। এর মধ্যে ১.২ কোটি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে, আর ২৭.৮ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে।










