বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গত শনিবার ভারতের পতাকা লাগানো দুই জাহাজে হামলা চালিয়েছিল বন্ধু ইরান (Iran)। যে ঘটনায় বেশ অসন্তুষ্ট নয়া দিল্লি। বন্ধু বলে চেঁচিয়েও কেন ভারতীয় জাহাজে হামলা চালানো হল তা জানতে আগেই ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল দিল্লি। পরে জানা যায় ইরানের তরফে যে ভুল হয়েছে তা অনিচ্ছাকৃত। এমতাবস্থায়, হরমুজ প্রণালী পার হতে যাওয়া ভারতীয় জাহাজগুলিকে নিয়ে বিশেষ সতর্ক ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy)। ইতিমধ্যেই নৌ সেনার তরফে হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে থাকা জাহাজগুলির উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
ফের হামলার আশঙ্কায় ভারত?
পাকিস্তানে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যেকার শান্তি চুক্তি ভেস্তে গিয়েছে। আর তারপর পরই ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। তেহরানের দাবি, প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ আমেরিকা। ওয়াশিংটন ডিসি এই জলপথ দিয়ে অবাধে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকা যতক্ষণ না পর্যন্ত এই জলপথ দিয়েই ইরানের সমস্ত জাহাজ অবাধে চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করছে ততক্ষণ হরমুজ বন্ধ থাকবে।
বলাই বাহুল্য, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছিল তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবারই। আর তার পরই ফের ভয়াবহ যুদ্ধে জড়াতে পারে এই দুই দেশ। এমন আশঙ্কা থেকেই সতর্ক ভারত। রাইটার্স মারফত খবর, ভারতের যে দুই জাহাজে হামলা হয়েছিল সেই জাগ অর্ণব এবং সামনার হেরাল্ড আগামী 22 এপ্রিলের মধ্যে মুম্বই বন্দরে এসে পৌঁছবে এমনটাই কথা রয়েছে। জানা গিয়েছে, এক ভারতীয় কর্মকর্তা জাহাজগুলিকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করানোর জন্য ইরান সরকারের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছে।
এরই মাঝে সোমবার হরমুজ প্রণালী পার করা নিয়ে ভারতীয় জাহাজগুলিতে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ভারতীয় নৌসেনার তরফে বার্তা না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজগুলি যেন হরমুজ না পার করে। একই সাথে ইরানের লারাক দীপ থেকে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভারতের পতাকা লাগানো জাহাজগুলিকে। এর সবচেয়ে বড় কারণ এই দ্বীপেই ইরানের সেনা একেবারে ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: বিরাট কোলিকে ছাপিয়ে গেলেন পাকিস্তানের বাবর আজম
উল্লেখ্য, গত শনিবার হরমুজ প্রণালী পার করতে গিয়েছিল ভারতের পতাকা লাগানো দুটি জাহাজ। ঠিক সেই সময় ইরানি সেনার তরফে জোরালো হামলা চালানো হয় ওই জাহাজ দুটিতে। সূত্রের খবর, দুই জাহাজের পেটে 20 লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে। যদিও এই দুই জাহাজের মধ্যে একটি জাহাজের স্বল্প ক্ষয়ক্ষতি হলেও তেল রক্ষা পেয়েছে বলেই খবর। এখন দেখার ভারতীয় নৌসেনার হাত ধরে ঠিক কবে দেশের বন্দরে নোঙর করে ওই দুই জাহাজ।










