বন্দে ভারত অতীত! ঘণ্টায় ২২০ কিমি গতির ট্রেন আনছে ভারতীয় রেল, থাকবে ব্ল্যাক বক্সও

Published:

Indian Railways

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বন্দে ভারত অতীত, বুলেট ট্রেন নিয়ে অপেক্ষার মাঝেই ট্র্যাকে ছুটতে চলেছে আরও দ্রুত গতির ট্রেন। এমনিতে ভারতের প্রথম প্রিমিয়াম এবং সেমি হাইস্পিড ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস নিয়ে মাতামাতির শেষ নেই। এই ট্রেনের এখন গতিবেগ ১০০ থেকে ১২০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। অন্যদিকে বুলেট ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩২০ কিমি হতে চলেছে বলে জানিয়েছে সরকার। তবে এই বুলেট ট্রেনের আগেই বন্দে ভারতের থেকে দ্রুত গতির ট্রেন আনতে চলেছে ভারতীয় রেল। যে ট্রেনের গতিবেগ হতে চলেছে ঘণ্টায় ২২০ কিমি। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন।

রেল আনছে ঘণ্টায় ২২০ কিমি গতির ট্রেন

রিপোর্ট অনুযায়ী, আসন্ন এই ট্রেন আগের তুলনায় নাকি আরও আধুনিক হবে। সবথেকে বড় কথা, বিমানের মতো এবার এই ট্রেনেও ব্ল্যাক বক্স থাকবে বলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে। জানা গিয়েছে, রেলওয়ে বোর্ড ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন দুটি উন্নত ট্রেনসেট উৎপাদনের অনুমোদন দিয়েছে। যেহেতু উৎপাদন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, আশা করা হচ্ছে এই ট্রেনগুলো গতি, আরাম এবং অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে।

ভারতীয় রেল ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার নকশাকৃত গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম দুটি নতুন ট্রেনসেট তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। এক রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৭-২৮ সালের কোচ উৎপাদন কর্মসূচির অধীনে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিকে (আইসিএফ) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ট্রেনগুলোর প্রতিটিতে ১৬টি কোচ থাকবে এবং এগুলো ভারতের বিদ্যমান রেল পরিকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্রড-গেজ ট্রেনসেট হিসেবে নির্মাণ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ ‘সৌরভের বাড়িতে ED হানা!’ ফেসবুকের ভুয়ো পোস্টের বিরুদ্ধে থানায় মহারাজ

পাইপলাইনে কিন্তু রেলের অনেক কাজ আছে। যেমন আইসিএফ-এ ১০০টি বন্দে ভারত, ৫০টি বন্দে ভারত স্লিপারের রেক নির্মাণ হবে। সেইসঙ্গে অমৃত ভারত ৩.০ ভার্সেন-এর ট্রেনও ট্র্যাকে নামানোর চেষ্টা চলছে। আনুমানিক ব্যয় কাঠামোর মধ্যে রয়েছে প্রতি কোচে ২৭.৮৬ কোটি টাকা এবং মোট চুক্তিমূল্য ৮৬৬.৮৭ কোটি টাকা। রেলওয়ে বোর্ডের যুগ্ম পরিচালক (মেকানিক্যাল-ইঞ্জিনিয়ার কোচিং) প্রাঞ্জল মিশ্র সমস্ত জোনে চিঠি পাঠানোর পর, সংশ্লিষ্ট জোনাল রেলওয়ে প্রেজেন্টেশন জমা দিয়েছে।

ট্রেনে থাকবে বিমানের মতো ব্ল্যাকবক্সও

ট্রেনে বিমানের মতো ব্ল্যাক বক্সও থাকবে। ব্ল্যাক বক্সটি আগুনের আগে ও পরের প্রতিটি কার্যকলাপ রেকর্ড করবে। ব্ল্যাক বক্স হলো বিমানের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা বিমান দুর্ঘটনার কারণ এবং চূড়ান্ত মুহূর্তগুলো নির্ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়। এটিকে বিমান দুর্ঘটনা তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একইভাবে, ট্রেনে অগ্নি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য ব্ল্যাক বক্স স্থাপন করা হবে। এর ফলে একটি শক্তিশালী ও টেম্পার-প্রুফ ডেটা লগার তৈরি হবে।

google button