কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চেম্বারে শশী পাঁজা, NCPI-তে যাচ্ছেন প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রী?

Published:

Shashi Panja

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার কি কাকলি শিবিরে যোগদান করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরেক প্রিয় মুখ শশী পাঁজা (Shashi Panja)? দুই ডাক্তারের আচমকা সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত মিলল তেমনটাই। ভোটে শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে গো হারা হারের পর যেন আচমকাই উধাও হয়ে গিয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এমনকি তৃণমূলের কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে, কোনও জনসংযোগে তাঁর দেখা মেলেনি। তবে প্রায় তিন মাস পর আচমকাই এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষের চেম্বারে ভিজিট বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

এবার কাকলি ঘোষের সঙ্গে শশী পাঁজা?

জানিয়ে রাখি, নির্বাচনে এবার ভরাডুবির পর একদিকে তৃণমূলের বিধানসভা ভেঙে তৈরি হয়েছে নতুন তৃণমূল, অন্যদিকে লোকসভা ভেঙে এনডিএ সমর্থিত দল এনসিপিআই-তে যোগদান করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ। তাদেরকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বারাসাতের সাংসদ তথা ডাক্তার কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অন্যদিকে এবার শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে ১৪ হাজার ৬৩৩ ভোটে হারেন শশী পাঁজা। পূর্ণিমা পেয়েছিলেন ৬০ হাজার ২৪৮ ভোট। অন্যদিকে প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রী পেয়েছিলেন মাত্র ৪৫ হাজার ৬১৫ পর্যন্ত ভোট। সেখান থেকেই বেপাত্তা ছিলেন শশী।

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি রোডের বাড়ির ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থিত ড: কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চেম্বার ঘোষ দস্তিদার ইনস্টিটিউট অফ ফার্টিলিটি রিসার্চ। অন্যদিকে পেশাগত দিক থেকে কাকলি ঘোষ এবং শশী পাঁজা, দু’জনেই ডাক্তার। যদিও এখন সেই পেশা সম্পর্কিত চর্চা তাঁদের নেই। সক্রিয় রাজনীতি করেন তাঁরা। তবে আচমকা এদিন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চেম্বারে ঢুকতে দেখা যায় মমতার প্রিয় পাত্রী শশী পাঁজাকে। সেখান থেকেই তৈরি হয় সন্দেহ। তাহলে কি এবার এনসিপিআই-র দিকে যাচ্ছেন শশী পাঁজা? যদিও প্রশ্ন করা হলে তিনি মুচকি হেসে উত্তর দেন, “ওই এমনি ক্লিনিকে এলাম।”

আরও পড়ুন: ফের অনেকটাই কমল সোনা, রুপোর দাম! দেখুন আজ কলকাতার রেট

কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শশী পাঁজার এই এমনি আসার মধ্যেই কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্র থাকতে পারে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মহিলা ব্রিগেডের অন্যতম প্রধান নেত্রীও শেষমেষ নিজেকে বিদ্রোহী ঘোষণা করে এনডিএ-কে সমর্থন করতে চলেছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে সন্দেহ তো একটা থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার, তৃণমূলের রাজনীতি ঠিক কোন দিকে মোড় নেয়।