সমুদ্রের নিচে চলবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন, টানেল নির্মাণে নামল ৫০০ হাতির ওজনের TBM

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ পর্যন্ত ছুটবে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন (India’s First Bullet Train)। সেই মতোই জোর কদমে চলছে প্রস্তুতি। 2020 সালে শুরু হওয়া বুলেট ট্রেন (Bullet Train) প্রকল্প যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে চাইছে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক। তবে মুম্বই থেকে আমেদাবাদ পর্যন্ত বুলেট ট্রেন প্রকল্পের অধীনে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে টানেল। প্রায় 21 কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এই টানেল তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই নিয়ে আসা হয়েছে বিশালাকার টানেল বোরিং মেশিন। এই রুটে মূলত থানে খাঁড়ির (মোহনা) নিচ দিয়ে সুরঙ্গ তৈরির জন্য ময়দানে নেমেছে বিরাট TBM।

খনন কাজ শুরু করেছে দ্বিতীয় মেশিন

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের মহারাষ্ট্রের থানে খাঁড়ির নিচে রেল টানেলের জন্য শনিবার দ্বিতীয় নতুন টানেল বোরিং মেশিন নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে সেই মেশিনই সমুদ্রের তলদেশে থানে খাঁড়ির নিচে খনন কাজ শুরু করে দিয়েছে। ন্যাশনাল হাইস্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেডের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন TBM সাওলি (ঘানসোলি) থেকে ভিখরোলির দিকে যাত্রা শুরু করেছে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে এও জানানো হয়েছে, বুলেট ট্রেন প্রকল্পের অধীনে 10 কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ অংশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্তত 7 কিলোমিটার অংশে অর্থাৎ থানে খাঁড়ির সমুদ্রতলের নিচে তৈরি হবে দীর্ঘ সুরঙ্গ। যা ভারতের ইতিহাসে কোনও রেল করিডোরের জন্য প্রথম ভূগর্ভস্থ টানেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।

রেল সূত্রে খবর, সমুদ্রের তলদেশে হাই স্পিড রেল করিডোরের জন্য তৈরি 21 কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ অংশের মধ্যে সাওলি এবং মুম্বাইয়ের বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্স (বিকেসি)-এর মধ্যবর্তী 16 কিলোমিটার অংশে টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করে সুরঙ্গ নির্মাণের কাজ হচ্ছে। এছাড়া বাকি 5 কিলোমিটার অংশে ইতিমধ্যেই নিউ অস্ট্রিয়ান টানেলিং মেথড ব্যবহার করে কাজ হয়েছে। জানিয়ে রাখি, এর আগে গত 5 জুলাই টানেল বোরিং মেশিন ভিখরোলি থেকে বিকেসি-র দিকে 6 কিলোমিটার অংশে কাজ শুরু করেছিল।

অবশ্যই পড়ুন: ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন রোহিত শর্মা, কী করবেন জানালেন নিজেই

প্রসঙ্গত, রেলের তরফে জানানো হয়েছে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পের অধীনে সমুদ্র তলদেশে সুরঙ্গ নির্মাণের জন্য যে টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে সেটির সুবিশাল। মেশিনটির কাটারহেড অন্তত 13.2 মিটার চওড়া। এছাড়াও এর উচ্চতা একটি চারতলা বাড়ির সমান। পাশাপাশি এই মেশিনটির ওজন 3,100 টন। যা 500টি এশীয় হাতির ওজনের সমান।