অনন্যা সরকার, ঝাড়খণ্ড: ট্রেন বিলম্বিত হওয়ায় যাত্রীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়েছে, তাই ক্ষতিপূরণ (Compensation) দিতে হবে রেলকে, এমনটাই রায় দিল ঝাড়খণ্ডের কনজিউমার কমিশন। ঝাড়খণ্ডের এক উপভোক্তা কমিশন প্রায় ৯ ঘণ্টা ট্রেন বিলম্বিত হওয়ার অভিযোগে এক যাত্রীকে ৩৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য দক্ষিণ পূর্ব রেলকে (South Eastern Railway) নির্দেশ দিয়েছে। সরাইকেলা জেলা উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভাপতি সুনীল কুমার সিং এবং সদস্য প্রদীপ কুমার মিশ্র ও সঞ্জু শাহী গত ২ সেপ্টেম্বর তাঁদের পর্যবেক্ষণে বলেন যে, এই বিলম্বের কারণে অভিযোগকারী মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।
৩৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবার নির্দেশ রেলকে
কনজিউমার কমিশনের আদেশে সভাপতি ও সদস্যরা জানান, তাঁরা সুচিন্তিতভাবে এই সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছেন যে অভিযোগকারী জোরালো এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের সাথে তার মামলাটি প্রমাণ করেছেন যে, ট্রেন দেরিতে চলার কারণে তিনি শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং তাই তাঁকে দক্ষিণ পূর্ব রেলের পরিষেবার ত্রুটির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগকারী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে টাটানগর থেকে সম্বলপুর যাওয়ার জন্য ইস্পাত এক্সপ্রেসে দুটি স্লিপার ক্লাসের টিকিট বুক করেন। ট্রেনটির টাটানগর থেকে সকাল ১০.১৮ মিনিটে ছাড়ার এবং বিকেল ৩.৫০ মিনিটে সম্বলপুরে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রেনটি দেরিতে ছেড়েছিল এবং মোট ৫২৮ মিনিট (৮ ঘন্টা ৪৮ মিনিট) দেরিতে সম্বলপুরে পৌঁছায়।
আরও পড়ুন: প্রিয় শিল্পীর মূর্তির চোখে জল! আসামে জুবিন গর্গের আবক্ষ মূর্তিকে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য
শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক হয়রানির কথা উল্লেখ করে, অভিযোগকারী ৪,৫০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে কনজিউমার কমিশনে অভিযোগ দায়ের করার আগে রেল কর্মকর্তাদের একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। রেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগটির বিরোধিতা করে যুক্তি দেখায় যে, বিলম্বের কারণে কোনো বস্তুগত ক্ষতি বা লোকসান হয়েছে, এমন কোনও জোরালো প্রমাণ ঐ ব্যক্তি দাখিল করতে পারেননি। আরও বলা হয় যে, অভিযোগটি কনজিউমার ফোরামের পরিবর্তে রেলওয়ে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট, ১৯৮৭-এর এখতিয়ারভুক্ত।
আরও পড়ুন: ফুঁসছে অতি গভীর নিম্নচাপ-ঘূর্ণাবর্ত, দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, আজকের আবহাওয়া
কমিশন রেলওয়ের এখতিয়ার সংক্রান্ত যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে ও সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ের কথা উল্লেখ করে যেখানে বলা হয়েছিল যে এই ধরনের মামলার বিচার করার এখতিয়ার সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে। কমিশন আরও বলে যে, ট্রেনের বিলম্ব যে রেলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, তা প্রমাণ করতে রেলওয়ে ব্যর্থ হয়েছে। কমিশন তাই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, অভিযোগকারী সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ তার মামলা প্রমাণ করেছেন এবং রেলওয়েকে হয়রানির জন্য ৩০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ ও মামলা পরিচালনার খরচ বাবদ ৫,০০০ টাকা দিতে হবে। এই আদেশ জারির তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই ক্ষতিপূরণের টাকা অভিযোগকারীকে পরিশোধ করতে হবে, আর তা না করলে আদেশ জারির তারিখ থেকে অর্থ আদায়ের তারিখ পর্যন্ত বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে সুদসহ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সেই অর্থ আদায় করা হবে।










