সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অবসর নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল (Sanjay Karol)। তবে তিনি তাঁর বিদায়ী ভাষণে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বিচারপতিরা ঈশ্বর নন। তাঁরা প্রতিটি সিদ্ধান্ত সঠিক দিতে পারেন না।” এমনকি বিচারপতি হতে গেলে বিনয় এবং প্রত্যেকটি বক্তব্যের আড়ালে আসল মানুষটির দেখার ক্ষমতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য সামনে আসতেই বিচার মহলে ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য।
গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির
এদিনের ভাষণে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল জানিয়েছেন, “সংবিধান শুধুমাত্র আমাদের আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে বলে না। এটি আমাদেরকে ন্যায়সঙ্গতভাবে তা প্রয়োগ করতে বলে।সম্ভবত এই কারণেই কে আইনত সঠিক, শুধু তা নির্ধারণ করার থেকে রায় দেওয়ার দায়িত্বকে আমি অনেক বড় বলে মনে করি। তবে বিচারক হিসেবে আমি ঈশ্বর নই। আমার সব সিদ্ধান্ত নিখুঁত হবে না। আমরা সব সময় একটি বিষয় মাথায় রেখেছি। শুধুমাত্র আবেদনকারীকে নয়, বরং সেই ব্যক্তিটিকেও দেখা। একটি আবেদন আপনাকে কেবলমাত্র মামলার ঘটনাগুলি জানাতে পারে। কিন্তু সেই ব্যক্তি ইতিমধ্যেই কী হারিয়েছেন বা আদালতের কাছে তিনি কী প্রত্যাশা করেন তা জানাতে পারে না। এই কারণেই আমি সবসময় বলেছি, রায় দেওয়ার জন্য বিশেষ মাত্রার বিনয় প্রয়োজন।”
এমনকি তিনি কথার বাইরে শোনার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, “বিচারকক্ষে এমন কিছু নীরবতা থাকে যা গভীর অর্থ বহন করে। বিচারকদের অবশ্যই তা বুঝতে সক্ষম হতে হবে। আইনজীবীদেরও নীরবতা শোনার একটি উপায় আছে। বিচার প্রক্রিয়ায় কেবলমাত্র উপস্থিত যুক্তি গুরুত্বপূর্ণ নয়, কথার মধ্যবর্তী নীরবতায় মানুষ কী বলতে বা দাবি করতে চাইছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।”
Delhi: A farewell function was held by the Supreme Court Bar Association (SCBA) in honour of Justice Sanjay Karol at the Supreme Court
(Source: Supreme Court Bar Association/YouTube) pic.twitter.com/WLkdG1yRLV
— IANS (@ians_india) August 21, 2026
আরও পড়ুন: বদলে গেল আগের সব নিয়ম, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই রাজ্যজুড়ে চালু ই-পেনশন ব্যবস্থা
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি করোল সুপ্রিম কোর্টে নিযুক্ত হন। মেয়াদকালের শেষ দিনে তাঁর বেঞ্চে ছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি, ভি মোহনা এবং তিনি। এমনকি তিনি তাঁর আইন পেশায় দীর্ঘ চার দশকের যাত্রার কথা স্মরণ করেন, এবং বলেন, আদালতকক্ষ তাঁর জন্য কখনোই কেবলমাত্র কাজের জায়গা ছিল না। এটি ছিল বৃহত্তর ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ কিছুর বাহন। তিনি জানান, “আমি বলব না যে এই যাত্রা কেবলমাত্র আমার একার ছিল। এই আদালতকক্ষ আমাকে কখনও পরিত্যাগ করেনি। এটি আমাকে আরও সমর্থন জুগিয়েছে।”










