সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মমতার আমলে তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পে একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার জন্য করা হত অর্থ সহায়তা। তবে দুর্নীতির শিকার সেই প্রকল্পও (Tab Scam)। এবার ট্যাব কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার করা হল কেন্দপুকুর হাইস্কুলের এক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং ক্লার্ককে। ভুয়ো নথি তৈরি থেকে শুরু করে টাকা আত্মসাৎ করার মতো অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই তদন্তের স্বার্থে তাঁদেরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে সিআইডি।
ট্যাব কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার স্কুল শিক্ষক
তৃণমূল আমলে ট্যাব কেনার জন্য একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ১০ হাজার টাকা করে তাঁদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হত। তবে এক বছর আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের একাদশ শ্রেণির ১৭৫ জন পড়ুয়ার ট্যাব কেনার টাকায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এমনকি সেই অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং ক্লার্কের বিরুদ্ধে শুরু হয় তদন্ত। সেই সূত্র ধরেই আজ ওই ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দুলাল মণ্ডল এবং ক্লার্ক রাজেশ চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ তাঁদেরকে মালদহ জেলা আদালতে তুলে তদন্তের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে সিআইডি আধিকারিকরা।
যদিও সেই সময় তদন্ত শুরু হলে অভিযোগ ওঠে, স্কুল কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কোনও যোগসূত্র নেই। এই অনিয়মের পিছনে রয়েছেন জলপাইগুড়ির এক ব্যক্তি। তারপর রাজ্য পুলিশের হাত থেকে তদন্তের ভার যায় সিআইডির উপর। সেখান থেকেই তদন্ত চালাতে থাকেন আধিকারিকরা। দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর গ্রেফতার করা হল অভিযুক্তদের। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জাল নথি তৈরি করা, এমনকি টাকা আত্মসাৎ করার মতো অভিযোগে এনেছে তদন্তকারী সংস্থা।
আরও পড়ুন: ‘নিজের নাতির নাম রেখেছেন তৈমুর’ বন্দে মাতরম প্রসঙ্গে শর্মিলাকে আক্রমণ শমীকের
তদন্তের স্বার্থে তাঁদেরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে সিআইডি। পাশাপাশি এই চক্রে স্কুলের আর কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তাও তদন্ত করা হচ্ছে। এমনকি স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেই খবর। যদিও এ বিষয়ে পরিচালন সমিতির কোনও কর্মী মন্তব্য করতে চাননি। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, কেন ওই ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং ক্লার্ককে গ্রেফতার করা হল তাও তাঁরা জানেন না। তবে এই ঘটনায় ফের সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।










