প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফ্লাই দুবাই কাণ্ড নিয়ে এখনও দেশ জুড়ে বিতর্ক চলছে। এমতাবস্থায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। আজ মঙ্গলবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাইলটের ধর্ম প্রসঙ্গ টেনে এক চাঞ্চল্যকর পোস্ট (Taslima Nasrin Flydubai) করেছিলেন লেখিকা। আর তাই নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল। বাধ্য হয়েই শেষে কমেন্ট সেকশন বন্ধ করা হল তাঁর।
ফ্লাই দুবাই কাণ্ড নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
সম্প্রতি ফ্লাই দুবাই কাণ্ড নিয়ে শোরগোল গোটা বিশ্বে। আর সেই ঘটনায় ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতা আজও সকলকে মুগ্ধ করে চলেছে। তিনি যেভাবে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিতে যাত্রীদের সুরক্ষা প্রদান করেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ইতিমধ্যেই ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলাকারী সহকারী পাইলটের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। তার নাম হামাম আল-হাম্মামি, ওমামের নাগরিক। ধর্মে মুসলিম তিনি। তাই এই ঘটনা নিয়ে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম কটাক্ষ করেছেন। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম লেখালেন জনপ্রিয় সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন।
কী বলেছেন তসলিমা নাসরিন?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, মঙ্গলবার, তসলিমা নাসরিন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন যে, ‘এখন তো পাইলট মুসলমান হলে সেই ফ্লাইটে যেতেই ভয় লাগবে…!’ মুহূর্তে সেই পোস্ট ব্যাপক ভাইরাল হয়। শুরু হয় নানা চর্চা। যদিও তাঁর পোস্টে যাতে কেউ কোনোরকম মন্তব্য করতে না পারে তার জন্য লেখিকা কমেন্ট সেকশনে বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও পোস্টের শেয়ার ছাড়িয়েছে ৩০ এর বেশি। বরাবরই তসলিমা চর্চার শিরোনামে থাকেন তাঁর সপাটে জবাব দেওয়ার জন্য। তাই এবারেও ফ্লাই দুবাই কাণ্ড নিয়ে চুপ থাকলেন না তিনি। তবে একাংশের মতে তসলিমাকে এই ধরনের পোস্ট করার আগে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত। কারণ এতে ধর্মীয় বিদ্বেষ বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: ‘দলে সুন্দরী ও শিক্ষিত মহিলা চাই, নইলে..’, বিতর্কিত মন্তব্য কাটোয়ার বিজেপি নেতার
প্রসঙ্গত, প্রায় ২০ বছর পরে কিছুদিন আগেই কলকাতার মাটিতে পা রেখেছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। আসলে ২০০৭ সালে ‘লজ্জা’ উপন্যাসকে কেন্দ্র করে উগ্রপন্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল যে তসলিমাকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেও তিনি ফিরতে পারেননি কলকাতায়। অবশেষে ২০২৬ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম তিনি কলকাতায় ফিরেছিলেন। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ শোরগোল শুরু হয়েছিল।










