LPG নিয়ে নয়া নিয়ম, না মানলেই মিলবে না গ্যাস সিলিন্ডার

Published:

LPG Connection Cancellation

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ সংকটের জেরে ক্রমেই বাড়ছে জ্বালানির সমস্যা (LPG Crisis)। এমতাবস্থায় মাসের শুরুতেই খারাপ খবর পেল গ্রাহকরা। একধাক্কায় ১ হাজার টাকা বাড়ল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম। এখানেই শেষ নয়, এবার ঘাটতির আশঙ্কা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই বাতিল করা হতে পারে এলপিজি কানেকশন (LPG Connection Cancellation)। তাই যাদের LPG ও PNG সংযোগ রয়েছে (Dual Connection Of LPG And PNG) সেই সমস্ত গৃহস্থ পরিবারকে চিহ্নিত করতে সমীক্ষার মাধ্যমে ময়দানে নামছে কেন্দ্র।

পাইপলাইনে গ্যাস থাকলে আর এলপিজি নয়!

গত ১৪ মার্চ, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে একটি পরিবারে একাধিক জ্বালানি সংযোগ রাখা যাবে না। বিশেষ করে যে সমস্ত বাড়িতে পাইপলাইন মারফত গ্যাস সরবরাহ হয়, তারা আর ভর্তুকিযুক্তি সিলিন্ডারের সংযোগ রাখতে পারবেন না। অর্থাৎ নতুন করে এলপিজি সিলিন্ডারের আবেদন করা যাবে না। কিন্তু নির্দেশ মানছে কতজন? দেখা গিয়েছে, গত দেড় মাসে মাত্র ৪৩ হাজার গ্রাহক তাঁদের LPG সিলিন্ডার সমর্পণ করেছেন। যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। তাই এই পরিস্থিতিতে দেশে রান্নার গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে সমীক্ষা চালিয়ে গ্রাহক চিহ্নিত করার কাজ শুরু শুরু হয়েছে।

অবিলম্বে সারেন্ডার করার নির্দেশ কেন্দ্রের

গত বৃহস্পতিবার, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, “একই সাথে দুটি সংযোগ রাখা বাঞ্ছনীয় নয়। কতজন গ্রাহক নিয়ম অমান্য করছেন তা খতিয়ে দেখতে একটি মূল্যায়ন বা অ্যাসেসমেন্ট শুরু হয়েছে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” এর আগেই PNG গ্রাহকদের আর LPG সিলিন্ডার সরবরাহ করা যাবে না বলে তেল বিপণন সংস্থা এবং তাদের ডিস্ট্রিবিউটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং যে সমস্ত পরিবারে ইতিমধ্যেই PNG সংযোগ রয়েছে, তাদের LPG সংযোগ থাকলে অবিলম্বে সারেন্ডার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে ফের দুই হেভিওয়েট নেতাকে তলব ED-র

প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে LPG সরবরাহে বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত বিপাকে পড়েছে। কারণ, দেশের ৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, ৫০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ৬০ শতাংশ LPG আমদানি করতে হয়। এই অবস্থায় কেউ যদি ডুয়েল ওনারশিপ নিয়ে থাকে তাহলে জ্বালানি প্রদানে ঘাটতি দেখা যাবে। তাই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সমীক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশের ১৬ কোটি গ্রাহকের কাছে পিএনজি সংযোগ রয়েছে, যেখানে এলপিজি গ্রাহকের সংখ্যা ৩৩ কোটিরও বেশি।