সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান প্রকল্প তেজস Mk-1A (HAL Tejas)-কে ঘিরে এবার সামনে এল বিরাট জালিয়াতির অভিযোগ। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা সংস্থার হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (Hindustan Aeronautics Limited) হায়দ্রাবাদের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে ভুয়ো টেস্ট রিপোর্ট জমা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত এই সংস্থার নাম টেক অ্যারো ডিভাইস (Tech Aero Devices)। অভিযোগ, তারা তেজস যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহের সময় মোট ১৯৯টি জাল পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা খাতে এবার বিরাট জালিয়াতির অভিযোগ
এইচএএল সূত্রে খবর, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সংস্থাটিকে একাধিক যন্ত্রাংশ সরবরাহের বরাত দেওয়া হয়েছিল। আর এই যন্ত্রাংশগুলি তেজস ফাইটার জেট প্রোগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। নিয়ম মারফত প্রতিটি যন্ত্রাংশের সঙ্গে আসল টেস্ট রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল, যাতে সেগুলির গুণমান এবং নিরাপত্তা যাচাই করা যায়। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে, রিপোর্টগুলি সম্পূর্ণ নকল ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি রিপোর্টগুলোতে ধাতুর শক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত তথ্যও উল্লেখ ছিল। অভিযোগ ওঠে, সব রিপোর্টই হায়দ্রাবাদের একটি সংস্থা Axis Inspection Solutions এর নামে তৈরি করা হয়েছিল।
কীভাবে ধরা পড়ে এই জালিয়াতি?
এইচএএল-র কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগে প্রথমে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। তারপর ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে অ্যাক্সিস ইন্সপেকশন সলিউশনসের অফিসে অডিট করা হয়। আর সেখানেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। অ্যাক্সিস কর্তৃপক্ষ জানায় যে, তারা এই ধরনের কোনও রিপোর্ট তৈরি করেনি। এমনকি তাদের নাম বা স্বাক্ষর বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তে ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৩ এর মধ্যে জমা পড়া একাধিক রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: তৃতীয় স্থানে পরশুরাম, প্রথম কে? এ সপ্তাহের টিআরপিতে চমক জি বাংলার
এদিকে এই ঘটনার পর এইচএএল বেঙ্গালুরু পুলিশ স্টেশনে এফআইআর দায়ের করে। অভিযোগে Tech Aero Devices এর সিইও এম শিবরাম প্রসাদের নাম উল্লেখ করা হয়। এমনকি পুলিশি প্রতারণা এবং জালিয়াতি ধারায় তদন্ত শুরু হয়েছে। আর ঘটনা প্রকাশ্য আসার পরেই এইচএএল ওই সংস্থাকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংস্থাটি ভুল স্বীকার করা ক্ষমা চাইলেও কড়া পদক্ষেপ নেয় এইচএএল। প্রথমত, টেক অ্যারো ডিভাইসকে অনুমোদিত সরবরাহকারী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়ে। দ্বিতীয়ত, তিন বছরের জন্য সংস্থাটিকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, এবং তৃতীয়ত, সমস্ত বকেয়া অর্থ প্রদান আটকে দেওয়া হয়। আর এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।










