ষাট পেরিয়েও দুর্দমনীয় এভারেস্ট জয়ী পর্বতারোহী বসন্ত, জয় করলেন দুর্গম মানালি শৃঙ্গ

Published:

Basanta Singha Roy Mukar Beh

অনন্যা সরকার, হিমাচল প্রদেশ: বয়স ষাটের গন্ডি পেরোলেই নানা রকম নিয়মের কড়াকড়ি ঘাড়ে চেপে বসে। শারীরিক অসুস্থতা থেকে বাঁচতে মেনেও নিতে হয় সেগুলো। কিন্তু বয়স যে শুধুই সংখ্যা মাত্র, তা প্রমাণ করেছেন অনেকে। প্রৌঢ়ত্বের গণ্ডি পেরিয়েও এমন সব দুঃসাহসিক কাজ করেছেন, যা দৃষ্টান্ত হয়ে থেকে গেছে। তাদের মধ্যেই একজন হলেন পর্বতারোহী (Mountaineer) বসন্ত সিংহ রায় (Basanta Singha Roy)। মাউন্ট এভারেস্ট (Mount Everest) জয় তো অনেক দিন আগেই করেছেন, এবার হিমাচল প্রদেশের ৬,০৬৯ মিটার উঁচু দুর্গম ‘মুকার বে’ (Mukar Beh) শৃঙ্গ জয় করার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন। তবে মানালি (Manali) শৃঙ্গ ছুঁয়েই ফিরে আসতে হয়েছে মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন অব কৃষ্ণনগর (MAK)-এর ৪ সদস্যের দলকে। তিনি ছাড়াও এই টিমে ছিলেন নবদ্বীপের বামুনপুকুর হাই স্কুলের শিক্ষক প্রশান্ত সিংহ, বিশ্বনাথ সাহা এবং পার্থসারথি লায়েক। এই দুঃসাহসিক অভিযানের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন তারা। 

দুর্গম মানালি শৃঙ্গ জয় 

দীর্ঘ ও কঠিন পথ অতিক্রম করে গত ২৩ জুন সকালে ওই পর্বতারোহীর দল সফলভাবে ‘মানালি’ শৃঙ্গ স্পর্শ করেন। তারা গত ৬ জুন কৃষ্ণনগর থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। হাওড়া স্টেশন থেকে নেতাজি এক্সপ্রেসে চড়ে চণ্ডীগড় পৌঁছে সেখান থেকে মানালি হয়ে হুন্ডার পর্যন্ত গাড়িতে করে পৌঁছান। তারপর শুরু হয় পদযাত্রা। টানা দু’দিন হেঁটে ওই চার সদস্যের দল বিপাশা নদীর উৎসস্থল, বিয়াস কুন্ডে পৌঁছায়। আর এখান থেকেই শুরু হয় আসল পর্বতারোহণ। ‘মুকার বে’ শৃঙ্গ এতটাই দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ যে পর্বতারোহীরা একে এড়িয়েই চলেন। গত ৬৫ বছরে এই শৃঙ্গে কেউ অভিযান চালিয়েছে বলে জানা নেই। 

অভিযানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রশান্ত সিংহ জানান, ‘মানালি’ শৃঙ্গ জয় করে তবেই ‘মুকার বে’ পৌঁছানো যায়। এটাই রুট। যাত্রাপথে অসংখ্য হিমবাহের ফাটল বা ক্রেভাস পেরোতে হয়। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বহু জায়গায় বরফ গলে গিয়ে পাথরের কর্নিস বেরিয়ে এসেছে। ফলে গত কয়েক বছরে এই যাত্রাপথ আরো দুর্গম হয়ে উঠেছে। এই কারণে মুকার বে শৃঙ্গটি জয় করা একপ্রকার অসম্ভব ছিল। প্রশান্ত সিংহ জানান, তাও ‘মানালি’ জয়ের পরে ‘মুকার বে’ পথে কিছুটা দড়ি লাগিয়েছিলেন তারা। কিন্তু পথ খুবই বিপদজনক বলে আর এগোতে সাহস করেননি। ফিরে আসেন সেখান থেকে। 

আরও পড়ুনঃ কবে বড়দের টিম ইন্ডিয়ায় অভিষেক বৈভব সূর্যবংশীর? দিনক্ষণ জানালেন গাভাস্কার

ক্র্যাম্পন লাগানো ভারী জুতো পরে এই বিপদসঙ্কুল যাত্রাপথ পেরোনো ছিল অত্যন্ত কষ্টের। এর মাঝেই আবার আবহাওয়ার অবনতি হওয়ায় সামিট ক্যাম্পে তাঁবুর মধ্যে টানা ২৭ ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় তাদের। প্রতিকূলতাকে জয় করে তারা ‘মুকার বে’ শৃঙ্গে পৌঁছাতে না পারলেও, দুর্গম ‘মানালি’ শৃঙ্গ স্পর্শ করতে পেরে খুবই খুশি চার পর্বতারোহীর দল। বসন্ত সিংহ রায় জানিয়েছেন, ষাটের গন্ডি পেরোনোর পরও যে তিনি এই শৃঙ্গ জয় করতে পেরেছেন, তা তার নিজের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। বাকি পর্বতারোহীরা তার সাথে ছিলেন, তাই তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনাটা তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানান তিনি।