‘বকেয়ার অপেক্ষায় থাকা পেনশন প্রাপকের মৃত্যু’, DA নিয়ে ফের ফুঁসলেন সরকারি কর্মীরা

Published:

Nabanna Dearness allowance

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ পুরনো হোক বা নতুন বিজেপি সরকার, ডিএ (Dearness allowance), পে কমিশন নিয়ে সরকারের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মীরা। আর এই বিষয়টা আবারও সকলকে বুঝিয়ে দিলেন সরকারি কর্মীরা। এই বিষয়ে নতুন করে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি জানালেন, বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকারের আচরণে তাঁরা বিরক্ত।

ফেসবুক ভিডিও বার্তায় মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘আমাদের কাছে বারবার ফোন আসছে, অনেক পেনশন হোল্ডার অসুস্থ। তাঁদের পরিবারের লোকজন আমাদের ফোন করে বলছেন ডিএ-র টাকাটা দিলে অন্তত দেখে যেতেন তিনি। দুদিন পর ফোন এল, অসুস্থ ব্যক্তির ছেলে জানালেন যে মলয়বাবু বাবাকে আর বাঁচাতে পারিনি। দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। তিনি তো কোনও দোষ করেননি। কেএমসি এলাকায় যারা বসবাস করেন, গ্রান্ট ইন কর্মীরা বারবার ফোন করছেন আমাদের। আমরা মামলাকারী সংগঠন, আমরা বারবার কর্মচারীদের যে অভাব অভিযোগ তা শুনতেই হয়।’

ডিএ মামলাকারী আরও বলেন, ‘আমরা ৭-৮ বার রাজ্যের যিনি অর্থসচিব তাঁকে চিঠি দিয়েছি, বলেছি আপনারা কেন দিচ্ছেন না। একই যাত্রায় পৃথক ফল কেন? ধরুন আমি একজন কর্মচারী, অপর আরেকজন কর্মচারী। তিনি কলকাতায় থাকেন আমি জেলাতে থাকি। আমি পেয়ে গেলাম তিনি পেল না। সেটা কেন হবে। হতে পারে কিন্তু ৩১ মার্চ, ২০২৬ এর মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক, আগের সরকার যতটুকু দিয়েছে, বাকিটা আমরা আদায় করব। কিন্তু অনেকে টাকা পাচ্ছেন না। এমনকি রাজ্যের নবনিযুক্ত রাজ্যের অর্থমন্ত্রী, তাঁকে অবধি চিঠি দিয়েছি। তিনি তো আবার প্রাপ্তি স্বীকারই করছেন না। জানাচ্ছেন না যে তিনি চিঠিটা পেয়েছেন কিনা। কোনও উত্তর নেই। রোজই ভাবি, আজই বোধ হয়, গ্রান্ট ইন, কেএমসি এলাকার কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেবে। কিন্তু তা হচ্ছে না।’

আরও পড়ুনঃ ডিম থেরাপি নিয়ে রাজ্যকে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

গত ১ জুন, ২০২৬-এ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যে বৈঠক হয়েছিল তা ফলপ্রসু হয়েছিল বলে দাবি মলয় মুখোপাধ্যায়ের। জানান, ‘আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছিলাম। গত ২ এপ্রিল অনেকে টাকা পেলেন কিন্তু কেএমসি এলাকার লোকেরা পেলেন না। এই বিষয়ে তিনি অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশও দিলেন দেখলাম। বর্তমান সরকার আসার পর আমরা কী পেয়েছি এটা সবাই জানে। ৪৫ দিনের মধ্যে ভোটের আগে বকেয়া ডিএ, বেতন পে কমিশন নিয়ে প্রায়োরিটি প্রচার করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। বেতন কমিশন হয়েছে? নোটিফিকেশন জারি হয়েছে? চেয়ারম্যান হয়েছে? সেখানে বলছে ডিসেম্বরে রিপোর্ট জমা পড়বে, ২০২৭ সাল থেকে নতুন পে কমিশন গঠন হবে। আবার অষ্টম পে কমিশনেরও কথা শোনা যাচ্ছে। ভগবান জানে কী করতে চাইছে সরকার।’