“যে দিয়েছে আর যে নিয়েছে, দু’জনকেই জেলে পাঠাব”, ভুয়ো সার্টিফিকেট নিয়ে রনংদেহি মুখ্যমন্ত্রী

Published:

Suvendu Adhikari

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: হুল দিবসের সভায় গিয়ে রনংদেহি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)! আদিবাসী জনজাতিদের সার্বিক কল্যাণ এবং তাদের ভাষা সংস্কৃতি রক্ষার জন্য একদিকে যেমন একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন তিনি, ঠিক তেমনই আর্থিক অনিয়ম নিয়ে একাধিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে এদিন ভুয়ো সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে দাওয়াই দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার মুকুটমনিপুরে হুল দিবসের মঞ্চ থেকে তৃণমূল সরকারকে একেবারে তুলোধোনা করে ছেড়েছেন শুভেন্দু।

জনজাতি উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ প্রকল্প

বিগত সরকারের তোষণের শাসন নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে তার পাশাপাশি জনজাতি হোস্টেলের পড়ুয়াদের ভাতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে জঙ্গলমহলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে ঘোষণা করেন তিনি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের ঘোষণা করেছেন, যেটি জঙ্গলমহলে মানব বন্যপ্রাণী সংঘাত রুখার জন্য মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করবে। এছাড়া পিএম জনমণ প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতায় লোধা, টোটোর মতো বিভিন্ন প্রাচীন ও অনগ্রসর জনজাতিগোষ্ঠীগুলির খাদ্য নিরাপত্তা বজায় থাকবে। এছাড়া কৃষি এবং হর্টিকালচার উন্নয়নের জন্য হিমঘর ও সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হবে।

তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ভুয়ো সার্টিফিকেট নিয়ে কড়া দাওয়াই দিয়েছেন। তিনি বলেন, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর দফতরকে বিশেষ কাজের জন্য সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী আগস্ট মাস থেকে জনজাতি হোস্টেলের ছাত্র-ছাত্রীদের খাদ্য ভাতা ১৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৩০০ টাকা করা হয়েছে। তবে ভুয়ো সার্টিফিকেট নিয়ে আগের সরকারকে একেবারে তুলোধোনা করে ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, তৃণমূল আমলে হাজার হাজার ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট বিলি করা হয়েছে। আমাদের দফতর প্রত্যেকটি ভুয়ো সার্টিফিকেট তদন্ত করছে। দোষী প্রমাণিত হলে যিনি সেই সার্টিফিকেট দিয়েছেন এবং যিনি জালিয়াতি করে সার্টিফিকেট নিয়েছেন দু’জনেই জেলে যাবেন।

আরও পড়ুন: ‘বকেয়ার অপেক্ষায় থাকা পেনশন প্রাপকের মৃত্যু’, DA নিয়ে ফের ফুঁসলেন সরকারি কর্মীরা

এমনকি এদিন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যের মা-বোনদের আগামী ১ জুলাই থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা ঢুকবে। আবেদন করা ১ কোটি ৫১ লক্ষ মহিলার মধ্যে মোট ১ কোটি ২০ লক্ষের বেশি নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। আগামীকাল এই ১ কোটি ২০ লক্ষ মা এবং বোনেরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে ট্রান্সফার করা হবে। আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এর মধ্যে ৫ লক্ষ জনজাতি দিদি এবং বোন রয়েছেন। এরপর থেকে প্রতি মাসেই ভাতার টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে।