ভারতীয় সেনাবাহিনীর বড় ‘দুর্বলতা’ ধরে ফেলল পাকিস্তান!

Published:

Pakistan On Indian Army

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিজেদের অস্ত্রাগাড়ে ক্রমাগত প্রাণঘাতী সব বিপদজনক অস্ত্রের মজুদ বাড়িয়েছে ভারত (Indian Army)। ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে আকাশের মতো সব অস্ত্রশস্ত্র চিন্তা বাড়িয়েছে পশ্চিমের দেশের। ভারতের হাতে থাকা উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন সব অস্ত্রশস্ত্র কতটা ভয়ানক তা ইতিমধ্যেই টের পেয়ে গিয়েছে ইসলামাবাদ। কিন্তু তা সত্ত্বেও এবার ভারতের থিয়েটার কমান্ড পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলল পাকিস্তান (Pakistan)। পাক সংবাদমাধ্যম ডনের তরফে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ভারতের তিন বাহিনীতে নাকি প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

ভারতীয় সেনার দুর্বলতা ফাঁস করল পাকিস্তান?

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ভারত রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং কঠোর সময়সীমার উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিলে সেটা সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বকে ক্ষুন্ন করতে পারে এবং তিন বাহিনীর যুদ্ধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য, ভারতীয় বিমান বাহিনী নাকি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে স্থল ও নৌবাহিনীতেও নাকি প্রয়োজনীয় উপকরণের তীব্র ঘাটতি দেখা গিয়েছে। আর এটাই ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির বড় দুর্বলতা, মনে করছে পাকিস্তান! যদিও পাকিস্তানের এমন দাবির কোনও যথাযথ যুক্তি নেই।

পাকিস্তানের ওই সংবাদমাধ্যম ভারতের থিয়েটার কমান্ড প্রসঙ্গে বলেছে, আন্তঃবাহিনী সংস্থা আইন 2023, সে বছরেরই 15 মার্চ লোকসভায় পেশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বর্ষাকালীন অধিবেশনে অনুমতি পায় এই আইন। পরে 2023 সালের 15 আগস্ট ভারতের রাষ্ট্রপতি এই আইনে সই করেন। তারপরই 2024 সালের 10 মে কার্যকর হয় এই বিশেষ আইনটি। আইনটির বিধিমালা 2025 সালের 27 মে জারি করা হলে যৌথ সামরিক কাঠামোকে ক্ষমতা প্রদান করে সরকার।

পাকিস্তানের ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান 2026 সালের শুরুর দিকে তিনটি থিয়েটার কমান্ডের জন্য সুপারিশ করেছিলেন। মূলত উত্তর, পশ্চিম ও সামুদ্রিক কমান্ডের জন্য সুপারিশ করেন তিনি। এদিকে সিডিএস-এর বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সরকারের দেওয়া সময়সীমার চাপে মে মাস শেষ হওয়ার আগেই একটি যৌথ অপারেশন সেন্টার চালু করার প্রস্তুতি চলছিল বলেও দাবি জানায় পাকিস্তান।

ডনের দাবি, রাজনৈতিক নির্দেশে দ্রুত পুনর্গঠনের মধ্যে দিয়ে আসলে পেশাগত উদ্বেগ এবং সেনাবাহিনীর নীতিগুলিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম দুর্বল দিক প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। পাকিস্তানের ওই সংবাদমাধ্যম এও বলছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাস নাগাদ ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে নাকি মাত্র 29টি ফাইটার স্কোয়াড্রন ছিল, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাকিস্তানের যা দাবি, 2025 সালের সেপ্টেম্বরে মিগ 21 যুদ্ধবিমান অবসর নেওয়ার আগে পর্যন্ত ভারতের ফাইটার স্কোয়াড্রনের সংখ্যা ছিল 31 থেকে 32টি। যা অনুমোদিত 42টি স্কোয়াড্রনের চেয়ে অনেক কম।

আরও পড়ুন: খেলেছেন টিম ইন্ডিয়ায়, সচিনের বন্ধু বিনোদ কাম্বলির জীবন কাটছে এখন বৃদ্ধাশ্রমে

তবে পাকিস্তান এও স্বীকার করেছে, ভারত যে একেবারে হাত গুটিয়ে বসে আছে এমনটা নয়। বিগত দিনগুলিতে ভারত নিজেদের অস্ত্রাগারে যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে গিয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে ফ্রান্সের সাথে ভারতের 114টি রাফালের চুক্তি চূড়ান্ত হবে। এছাড়াও ভারতের দেশীয় প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এএমসিএ-র কাজও চলছে দ্রুতগতিতে। পাকিস্তান এও বলেছে, ভারতের নৌবাহিনীর সাবমেরিনের সংখ্যা কমছে এবং তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরীর চাহিদা বাড়ছে। পাকিস্তানের চোখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুর্বলতা থাকলেও আদতে ভবিষ্যতের আধুনিক যুদ্ধের জন্য সব রকম প্রস্তুতি সারছে কেন্দ্র।

আরও Indian Army Pakistan
google button