সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইরান এবং আমেরিকা যুদ্ধ থেমে স্বাভাবিক হয়েছে হরমুজ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও তলানিতে ঠেকেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এখনই দেশের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম (Petrol Diesel Price) কমছে না। আগামী দুই থেকে তিন মাস কোনও সম্ভাবনাই নেই। এমনটাই জানাল কেন্দ্র সরকার। যে ব্রেণ্ট ক্রুড ওয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলার গিয়ে ঠেকেছিল, তা এখন কমে মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তাহলে কেন দেশের বাজারে এখনই জ্বালানির দাম কমছে না?
পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ৩০ জুন পর্যন্ত লোকসানেই পেট্রোল, ডিজেল বা এলপিজি বিক্রি করতে হয়েছে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলিকে। এমনকি এর জন্য প্রায় ৭৪ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলেই দাবি করছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও কোম্পানিগুলি এখনও পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করতে বাধ্য হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর কথায়, “আমরা আজ যে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম ব্যবহার করছি তা দুই থেকে তিন মাস আগে কিনেছিলাম। এই পতন যদি দুই থেকে তিন মাস চলতে থাকে তাহলে ভেবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু বর্তমানে এটি কাল্পনিক পরিস্থিতি।”
এদিন মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, “উন্নত দেশগুলিতে এই সময় পেট্রোলের দাম প্রায় ২০% বেড়েছে, এমনকি ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রায় ৩৫% বৃদ্ধি পেলেও সংকটের মুহূর্তেও ভারতে পেট্রোলের দাম বেড়েছে মাত্র ৫.৫৮%। গত চার মাসে আমাদের ১ লক্ষ ৭ হাজার আউটলেটের কোনটিতে পণ্য বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি, এবং আমরা ভালোভাবেই তা পরিচালনা করেছি। কিন্তু কম দামের অপরিশোধিত তেল রিফাইনারগুলিতে এসে পরিশোধিত হয়ে বাজারে পৌঁছতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে।”
#WATCH | Delhi | Union Minister for Petroleum and Natural Gas Hardeep Singh Puri states that fuel prices will not be reduced.#PetrolCrisis #IranWar pic.twitter.com/5XK1ihDlbX
— OTV (@otvnews) July 2, 2026
আরও পড়ুন: জমির খতিয়ান পেতে আর লাগবে না টাকা, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নায়ারা পেট্রোলের দাম কমিয়েছে। সংকটের মুহূর্তে তারা প্রতি লিটারে ৫ টাকা দাম বাড়ালেও সেই মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করেছে সংস্থা। কিন্তু মন্ত্রীর কথায়, তারা শুধুমাত্র দামটা কমিয়েছে, অথচ তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি তখন দাম বাড়ায়নি। মোদ্দা কথা, ইরানের সংঘাত চলাকালীন বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল বিপণন সংস্থাগুলি এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা সম্পূর্ণ নিজেদের উপরেই চাপিয়েছিল। গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত চাপ দেয়নি তারা। কিন্তু যেহেতু এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি, তাই আরও বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেই মত প্রকাশ করেছেন হরদীপ সিং পুরি।










