মসজিদের মাইক খোলা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত, মামলা খারিজ কলকাতা হাইকোর্টের

Published:

Mosque

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মসজিদ (Mosque) থেকে মাইক খুলে দিচ্ছে রাজ্যের বিজেপি সরকার, এই অভিযোগেই কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা হয়েছিল জনস্বার্থে মামলা। এমনকি ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এ নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন। এবার জনস্বার্থে দায়ের হওয়া সেই মামলা খারিজ করে দিল হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরুপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।

মসজিদের মাইক খোলা নিয়ে করা মামলা খারিজ হাইকোর্টে

রাজ্যজুড়ে বেছে বেছে মসজিদগুলির মাইক খুলে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি প্রায় ৪০০০ মসজিদের মাইক খুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশ নিজে গিয়ে খুলছে মাইক। এই সমস্ত দাবি নিয়েই জনস্বার্থে মামলা দায়ের করা হয়েছিল হাইকোর্টে। এমনকি সম্প্রতি রাজ্য পুলিশকে চিঠি লিখে নওশাদ সিদ্দিকী দাবী করেছিলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ আসছে যেখানে পুলিশ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক আর ধর্মীয় কর্মসূচিতে মাইক ব্যবহারের নোটিশ জারি করেছে। যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাইক ব্যবহারে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী হতে পারে বলে দাবি ছিল তাঁর। এমনকি এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানান তিনি।

তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ইস্যু নিয়ে জানিয়েছিলেন, প্রশাসন কলকাতা হাইকোর্টের ২০২০ সালের নির্দেশনা মারফত কাজ করছে। সেখানে আদালতের নির্দেশ ছিল যে, কোনও ধর্মীয় স্থান, সে মন্দির হতে পারে কিংবা মসজিদ বা গুরুদ্বার, শব্দের সীমা সবসময় নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই রাখতে হবে। আদালতের নির্দেশ মেনে চলার জন্যই রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, পাকিস্তানিদের জন্য কড়া সতর্কবার্তা দূতাবাসের

এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি ছিল, শুধুমাত্র বেছে বেছে মসজিদগুলিতে মাইক খুলছে না পুলিশ। কারণ, রাজ্যজুড়ে ৩৪টি পুলিশ জেলা মিলিয়ে মোট ৫২৯৯টি লাউডস্পিকার খুলেছে। এর মধ্যে মসজিদ থেকে সরানো হয়েছে ৪২০৩টি মাইক এবং মন্দির থেকে সরানো হয়েছে ১০৯৬টি মাইক। অর্থাৎ নিয়ম সমস্ত ধর্মের জন্যই এক। বেছে বেছে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করা রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য নয়। এই সমস্ত যুক্তি দিয়েই রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত মামলা খারিজ করে দিয়েছে।