শার্টের বুক পকেটে ফোন রাখেন? হতে পারে বড়সড় বিপদ

Published:

phone in the chest pocke

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: স্মার্টফোন (Phone) এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় জিনিস। ফোন সবসময় কাছে রাখার অভ্যাসও তাই খুব স্বাভাবিক। কেউ প্যান্টের পকেটে ফোন রাখেন, আবার কেউ সহজে ব্যবহারের জন্য শার্টের বুক পকেটে রাখেন। তবে বাম দিকের শার্টের পকেট ফোন রাখা কি আদৌ নিরাপদ? কারণ বাম দিকের বুক পকেটটি হৃদযন্ত্রের (Heart) একেবারে কাছাকাছি অবস্থিত। ফোনের কম্পন বা সিগন্যালের কারণে হার্টবিটে কোনও প্রভাব পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে নানান আলোচনাও হয়ে থাকে। কিন্তু কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান?

ফোনের সিগন্যাল কি হার্টবিট বদলে দিতে পারে?

কার্ডিওলজিস্ট ডা. সমীর কুব্বার মতে, সুস্থ সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে শার্টের পকেটে বা বাম পকেটে ফোন রাখার সঙ্গে অস্বাভাবিক হার্ট রিদমের কোনও নিশ্চিত যোগসূত্রের প্রমাণ নেই। ফোন মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য ওয়্যারলেস ডিভাইসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা আরএফ সিগন্যাল ব্যবহার করে। এই সিগন্যাল নন-আয়নাইজিং প্রকৃতির। অর্থাৎ এক্স-রের মতোন আয়নাইজিং রেডিয়েশন সৃষ্টি করে সরাসরি ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করার শক্তি এতে থাকে না। FDA-ও জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সামগ্রিক ভিত্তিতে মোবাইল ফোনের রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশনের সঙ্গে স্বাস্থ্য সমস্যার কোনও নির্দিষ্ট যোগসূত্র নেই।

ফোন ভাইব্রেট করলে হার্টবিট বেশি অনুভূত হয় কেন?

পকেটে থাকা ফোন হঠাৎ ভাইব্রেট করলে অনেক সময় মনে হতে পারে, বুকের ভিতর বা হার্টের কাছাকাছি কিছু একটা নড়ছে। তবে এমন অনুভূতি হলেই হার্টবিট বদলে গিয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ডা. কুব্বার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শরীরের সঙ্গে ফোনের কম্পন লাগলে ওই অংশের স্বাভাবিক অনুভূতিগুলির প্রতি আমাদের সচেতনতা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি নিজের হার্টবিট নিয়ে আগে থেকেই চিন্তিত থাকেন বা শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনের দিকে বেশি নজর দেন, তাহলে স্বাভাবিক ধুকপুকানিও বেশি জোরালো মনে হতে পারে।

তবে কারা ফোন রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন?

এই প্রশ্নটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। যাদের শরীরে পেসমেকার বা ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিয়াক ডিফিব্রিলেটর বা আইসিডি-র মতো কোনও ইমপ্ল্যান্টেড হার্ট ডিভাইস রয়েছে, তাদের ফোন রাখার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ, কিছু মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে থাকা শক্তিশালী ম্যাগনেট খুব কাছ থেকে ইমপ্ল্যান্টেড কার্ডিয়াক ডিভাইসের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এমন ম্যাগনেটের কারণে কোনও কোনও ডিভাইস বিশেষ ‘ম্যাগনেট মোড’-এ চলে যেতে পারে বা সাময়িকভাবে তার স্বাভাবিক কাজের ধরন বদলাতে পারে।

FDA-র পরামর্শ অনুযায়ী, মোবাইল ফোনের মতো ম্যাগনেটিক ইন্টারফেরেন্স তৈরি করতে পারে এমন ইলেকট্রনিক ডিভাইসকে ইমপ্ল্যান্টেড মেডিক্যাল ডিভাইস থেকে অন্তত ৬ ইঞ্চি বা প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার দূরে রাখা উচিত। যে জায়গায় পেসমেকার বা অন্য কোনও কার্ডিয়াক ডিভাইস বসানো রয়েছে, ঠিক তার ওপরের শার্ট বা জ্যাকেটের পকেটে ফোন রাখা উচিত নয়।

পেসমেকার থাকলে কীভাবে ফোন ব্যবহার করবেন?

পেসমেকার বা আইসিডি থাকলে ফোনটি শরীরের যে পাশে ডিভাইসটি বসানো হয়েছে, তার বিপরীত পাশের কানে ব্যবহার করা যেতে পারে। সামনে বুকের পকেটে ফোন না রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও পেসমেকার বা আইসিডি-র ক্ষেত্রে ফোন ও ডিভাইসের মধ্যে অন্তত ৬ ইঞ্চি দূরত্ব রাখার কথা বলেছে।

কখনও হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা, হার্ট দ্রুত চলা বা বিট স্কিপ করার মতো অনুভূতি হলে সেটার কারণ হিসেবে সঙ্গে সঙ্গে ফোনকে দায়ী করা ঠিক নয়। ক্যাফেইন বা অতিরিক্ত চা-কফি, মানসিক চাপ, শরীরে পানির ঘাটতি, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং বিভিন্ন ধরনের হার্ট রিদমের সমস্যা থেকেও প্যালপিটেশন বা বুক ধড়ফড় হতে পারে। তাই বারবার এমন সমস্যা হলে শুধু ফোন পকেট থেকে বের করে দেওয়াই সমাধান নয়। প্যালপিটেশন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আসল কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: সূর্যদেবের কৃপায় কপাল খুলবে ৫ রাশির! আজকের রাশিফল, ৪ অক্টোবর

সব মিলিয়ে, সাধারণ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে শার্টের বাম পকেটে ফোন রাখলেই ফোনের সিগন্যালের কারণে হার্টবিট অস্বাভাবিক হয়ে যায় এমন প্রমাণ নেই। তবে পেসমেকার, আইসিডি বা অন্য কোনও ইমপ্ল্যান্টেড কার্ডিয়াক ডিভাইস থাকলে ফোনের অবস্থান নিয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এবং চিকিৎসক ও ডিভাইস প্রস্তুতকারকের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।

google button