অনন্যা সরকার, কলকাতা: ঘিয়ের (Ghee) মনমাতানো সুগন্ধ বহু মানুষেরই খুব প্রিয়। এক থালা গরম ভাতের ওপর এক চামচ খাঁটি ঘি পড়লেই সুগন্ধে বাড়ি পুরো ম-ম করে। একটা সময় অনেকেই মনে করতেন হৃদরোগে আক্রান্তদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে ঘি এড়িয়ে চলা উচিত, কিন্তু সম্প্রতি বদলে গেছে সেই ধারণা। বহু গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, পরিমিত পরিমাণে ঘি খাওয়া আসলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে, ঘি অবশ্যই খাঁটি হতে হবে। তবে বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ ঘি প্রায়শই এই মান পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, কারণ অসাধু ব্যবসায়ীরা মুনাফা অর্জনের জন্য এতে ভেজাল মেশায়। কেনার সময় শুধুমাত্র গন্ধ শুঁকে ঘিয়ের গুণমান বিচার করা অসম্ভব, তাই ক্রেতারা প্রায়শই এর বিশুদ্ধতা যাচাই না করে ব্র্যান্ডের নাম দেখে ঘি কেনেন। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, খাঁটি ঘি চেনার বেশ কিছু কৌশল রয়েছে, এই পদ্ধতিগুলো (Easy Methods) জেনে রাখলে আর কোনোদিন ঘি কিনতে গিয়ে ঠকবেন না।
কীভাবে চিনবেন খাঁটি ঘি?
১. ঘিয়ের স্বচ্ছতা দেখে বোঝা যায় যে সেটা খাঁটি কি না। রাসায়নিক মেশানো থাকলে, ঘি দানাদার হয়ে যেতে পারে ও এর হলদেটে আভা বদলে যেতে পারে। তাপমাত্রার হেরফের দিয়েও ঘি খাঁটি কিনা বোঝা যায়। উচ্চমানের ঘি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে এবং জমে যায় না।
২. ঘি খাঁটি কিনা জানতে করে নিতে পারেন একটি সহজ পরীক্ষা। একটি সাদা কাগজের ওপর অল্প পরিমাণে ঘি রেখে প্রায় এক ঘণ্টা স্থিরভাবে রেখে দিতে হবে। ঘি খাঁটি হলে, কাগজটি তা সম্পূর্ণরূপে শোষণ করে নেবে। আর ঘি নিম্নমানের হলে কিংবা এতে কোনো ভেজাল থাকলে, কাগজের ওপর এর একটি অবশিষ্টাংশ থেকে যাবে।
আরও পড়ুন: অল্প সময়ে সন্ধ্যের টিফিনে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন দইয়ের ফুলকি, স্বাদ হবে অতুলনীয়
৩. পাত্রে ঘি গরম করার সময় এটি গলতে বেশি সময় নিলে বুঝতে হবে, এতে ভেজাল থাকতে পারে, কারণ খাঁটি ঘি তাপের সংস্পর্শে খুব দ্রুত গলে যায়। এছাড়া, খাঁটি ঘি গরম করলে খুব বেশি ধোঁয়া বের হয় না।
৪. একদম বিশুদ্ধ ঘি ফ্রিজে কয়েক ঘণ্টা রাখলেই তা জমে যায়। তবে, যদি এর মধ্যে কোনো অবাঞ্ছিত রাসায়নিক পদার্থ উপস্থিত থাকে, তবে জমে যাওয়া ঘিয়ের ওপর একটি স্বতন্ত্র স্তর তৈরি হতে পারে, যা দেখে এর বিশুদ্ধতা আন্দাজ করা যায়।
৫. খাঁটি ঘি চেনার জন্য এক গ্লাস গরম জলে সামান্য ঘি মিশিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে। বিশুদ্ধ ঘি গরম জলে সহজেই দ্রবীভূত হয়ে যায়, অন্যদিকে ভেজাল ঘি জলের ওপর ভেসে ওঠে।
২০-৩০ বছর আগে প্রতিদিনের দুধের সর জমিয়ে বাড়িতে যেভাবে ঘি তৈরি করা হতো, আজও ঠিক সেই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতেই বেশ কিছু জায়গায় ঘি তৈরি হয়। কোনো আধুনিক প্রক্রিয়ার বদলে সেই চেনা ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি এই ঘির স্বাদ ও গন্ধে মিশে থাকে পুরনো দিনের পরিচিতি। আপনিও যদি ঘরে তৈরি খাঁটি গরুর দুধের ঘি নিতে চান, তাহলে এখানে ক্লিক করে WhatsApp-এ মেসেজ করুন অথবা কল করুন 7431092865 নাম্বারে।










