মহিলাদের যৌন নির্যাতন, মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ! TCS-এ ধর্মান্তরণের পর্দা ফাঁস

Published:

TCS Nashik Case

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের অন্যতম শীর্ষ বহজাগতিক সংস্থা টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের (Tata Consultancy Services) নাসিক শাখায় (TCS Nashik Case) এবার এক ভয়ংকর চক্রের পর্দা ফাঁস হল। অফিসের ভেতরেই মহিলা কর্মীদের যৌন হেনস্তা, শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এমনকি জোর করে ধর্মান্তরনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। আর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তারা নয়টি এফআইআর দায়ের করেছে এবং সাতজন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কীভাবে ফাঁস হল এই চক্র?

আসলে এই ঘটনার সূত্রপাত ফেব্রুয়ারি মাসে। এক রাজনৈতিক কর্মীর কাছ থেকে পুলিশ খবর পায় যে, টিসিএস অফিসের এক হিন্দু মহিলা কর্মী হঠাৎ করেই রমজানের রোজা রাখা শুরু করেন এবং অফিসে তাঁকে ইসলাম ধর্মের নিয়ম মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। এরপর পুলিশ গোপন তদন্ত শুরু করে। চারজন পুলিশ কর্মী সাফাই কর্মী সেজেই টানা দুই সপ্তাহ ওই অফিসে কাজ করেন, আর কর্মীদের গতিবিধি লক্ষ্য করেন। এরপর তাঁদের রিপোর্টে উঠে আসে হাড়হিম করা তথ্য।

তদন্ত করে জানা যায়, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণী কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানাত অভিযুক্তরা। যারা শাড়ি পড়তেন বা ভারতীয় সংস্কৃতি মেনে চলতেন তাঁদের উপরে নানারকম ভাবে চাপ সৃষ্টি করা হতো। এমনকি হিন্দু দেবদেবীর নামে অবমাননার মন্তব্য করা হতো আর নামাজ পড়তে বাধ্য করা হতো। পাশাপাশি জোর করে গোমাংস খাওয়ানোর মতো অভিযোগও জানিয়েছেন নির্যাতিতারা। সবথেকে বড় ব্যাপার, ঘুরতে যাওয়ার নাম করে রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে তাঁদেরকে যৌন হেনস্থা করার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের। মূল অভিযুক্ত দানিশ শেখের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগও ওঠে।

এদিকে তদন্তকারীরা নিদা খান নামে এক মহিলার নাম সামনে আনেন। যিনি সংস্থার এইচআর বিভাগে কর্মরত। অভিযোগ, নিদা নতুন মেয়েদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বানাতেন আর ধীরে ধীরে কঠোরপন্থী আলোচনার দিকে ঠেলে দিতেন। পুলিশ অভিযানের খবর পেয়ে নিদা মোবাইল ফেলে পালান। বর্তমানে তিনি পলাতক। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মালয়েশিয়া নিবাসী জনৈক প্রচারক ইর্মানের নাম। ভিডিও কলের মাধ্যমে এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলেই খবর। আর এই কাজে কোনও বিদেশি অর্থে লেনদেন হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বহু অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বঙ্গে প্রথম দফার ভোটে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী, কোন জেলায় কত জানিয়ে দিল কমিশন

এখনও পর্যন্ত দানিশ শেখ, শফি শেখ, তৌসিফ আত্তার, শাহরুখ হুসেন, রজা রফিক মেমন, আসিফ আনসারি এবং অশ্বিনী চৈনানিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে এসআইটি সূত্রে খবর। অশ্বিনী চৈনানির পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে নাসিক কাদালত। আর পুলিশ জানিয়েছে যে, কোম্পানির সার্ভার থেকে অশ্বিনীকে পাঠানো ৭৮টি মেইল খতিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই অবহিত করেন। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত অভিযুক্তকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে। আর রাজনৈতিক মহলেও এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।