সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আরও শক্তি বাড়াচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা খাত। ব্রহ্মোস মিসাইলের সফলতার পর এবার লখনৌতে দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও এক মাইলফলক অর্জন করতে চলেছে নয়াদিল্লি। সূত্রের খবর, লখনৌ ভিত্তিক প্রযুক্তি সংস্থা কাওয়া ইউএভি প্রাইভেট লিমিটেড দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পরবর্তী প্রজন্মের জেট চালিত যুদ্ধাস্ত্র ‘দিব্যাস্ত্র এমকে ৩’ ড্রোনের (Drone) প্রথম উড়ান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
প্রতিরক্ষা খাতে আরও সাফল্য ভারতের
দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন তৈরি হবে, এ কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনেক আগেই জানিয়েছিলেন। তবে এই আবিষ্কারকে কোম্পানির সহ প্রতিষ্ঠাতা শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হিসাবে দেখছেন না, বরং ভারতের দেশীয় প্রযুক্তির সক্ষমতার আরও বড় উদাহরণ হিসাবে উঠে আসছে এই প্রযুক্তি। এই কোম্পানি ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় জেট চালিত লোইটারিং মিউনিশনের উড্ডয়ন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। ফলে স্বদেশী প্রযুক্তির দিক থেকে যে ভারত আরও একধাপ এগোল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
জানিয়ে রাখি, গত ১১ আগস্ট এই পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে ভারতীয় এয়ারফ্রেম থেকে শুরু করে স্বদেশী জেট ইঞ্জিন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং স্বদেশী ফায়ারপাওয়ার রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এমনকি কোম্পানির দাবি, ‘দিব্যাস্ত্র এমকে ৩’ মাত্র ১ বছরের মধ্যেই প্রথম উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। আর এই সিস্টেমে যে জেট ইঞ্জিনটি ব্যবহার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। এমনকি এটি ডিজি প্রোপালশন দ্বারা তৈরি। কোম্পানি জানাচ্ছে, এই সিস্টেমে কোনও আমদানিকৃত জেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়নি। এমনকি বিদেশি কোনও সাবসিস্টেমের উপরেও নির্ভরতা রাখা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ ভারতেই তৈরি করা হয়েছিল।
#WATCH | Kawa UAV Pvt. Ltd. (HoverIt) conducts a successful flight of the Divyastra Mk3 — a next-generation, jet-powered loitering munition developed in India.
“This is not merely a test flight — it is a declaration of intent. India has demonstrated, at scale and at speed, that… pic.twitter.com/MbrMA5jBI1
— ANI (@ANI) August 16, 2026
আরও পড়ুন: তারেকের ভারত সফরের আগেই হাসিনার প্রত্যার্পণ, দিল্লির কাছে দাবি ঢাকার
এমনকি কোম্পানি এটিকে আত্মনির্ভর ভারতের বাস্তব রূপ হিসেবেই বর্ণনা করছে। তাদের দাবি, এর সাফল্য ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং মনুষ্যবিহীন সিস্টেমের বিকাশের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, লোইটারিং মিউনিশন হল এমন একটি মারাত্মক অস্ত্র ব্যবস্থা, যা সুইসাইড ড্রোন হিসাবেই পরিচিত। ক্ষেপণাস্ত্রের মতো না হলেও, এটি উৎক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানতে পারে। এমনকি ড্রোনটি শত্রু এলাকার উপর দীর্ঘ সময় ধরে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত হলেই নিমেষের মধ্যে সেটিকে গুঁড়িয়ে দেয়। এই কারণেই এই প্রযুক্তিকে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের এক সম্ভাবনাময় হিসাবেই দেখা হচ্ছে।










