সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তীব্র দাবদাহের মধ্যে বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বড় উদ্যোগ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। দুপুরের প্রচন্ড গরম এবং প্রখর রোদের কারণে বাইরে বেরোনো দুষ্কর। এই প্রাণঘাতী দহন জ্বালা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্যই রাজ্যের সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণি অবধি সমস্ত শ্রেণীর পঠনপাঠন বন্ধ (Summer Vacation) থাকবে বলে জারি করা হয়েছে নির্দেশিকা। প্রতিটি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মানবিক উদ্যোগ রাজ্য সরকারের
বলে দিই, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বিহার সরকারের তরফ থেকে। পাটনায় বর্তমান তাপমাত্রা প্রায় ৪০-র ঘর ছাড়িয়েছে। এই তীব্র তাপপ্রবাহের কথা মাথায় রেখেই ছুটির ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই ছুটি শুধুমাত্র পাটনা জেলাতেই কার্যকর হবে। সেক্ষেত্রে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত সরকারি, আধা সরকারি কিংবা বেসরকারি স্কুলগুলি বন্ধ থাকবে। জেলা প্রশাসক কুন্দন কুমার ভারতীয় বেসামরিক সুরক্ষা আইন ২০২৩-র ১৬৩ ধারার আওতায় নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জেলার সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলে প্রাক প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রমের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে গতকাল অর্থাৎ ২৮ জুন। সেক্ষেত্রে ২৯ এবং ৩০ জুন দু’দিন ছুটি পাবে রাজ্যের পড়ুয়ারা। এমনকি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উল্লেখ করেছে, জেলায় চরম তাপমাত্রা বিশেষ করে দুপুরের দিকে তীব্র গরম শিশুদের স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পাটনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আগে ২৮ জুন পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ছুটির ঘোষণা করেছিল, এবং ২৯ জুন স্কুল খোলার কথা ছিল। কিন্তু গরম আরও বাড়ার কারণে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সেই ছুটি কিছুটা বর্ধিত করা হল। তবে হ্যাঁ, নবম থেকে অন্যান্য ক্লাসের পড়ুয়াদের আজ থেকেই পঠনপাঠন শুরু হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাজ্যের প্রত্যেকটি স্কুলে বসবে ভারতীয় ভাষা ক্যাম্প, বিজ্ঞপ্তি শিক্ষা দফতরের
এমনকি আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে ছুটি আরও বাড়ানো হতে পারে বলেই জানানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ক্রমাগত বাড়তে থাকা তাপমাত্রা এবং আবহাওয়া দফতরের কমলা সতর্কতার মধ্যে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে যে অভিভাবকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, এই তীব্র গরমের মধ্যে হিট স্ট্রোক বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে শিশুদের মধ্যে। তবে সেক্ষেত্রে যদি দাবদাহ না কমে, তাহলে ছুটি আবারও পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।










