রাজ্যে চালু ‘কৃষি সখী’ প্রকল্প, মহিলাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, কী সুবিধা মিলবে জানুন

Published:

Krishi Sakhi

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ডবল ইঞ্জিন সরকারের আওতায় ঝড়ের গতিতে উন্নয়ন পশ্চিমবঙ্গে! আগের সরকারের কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না বলেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার সঙ্গে চালু হচ্ছে নতুন একাধিক প্রকল্প। এবার কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। রাসায়নিক সার এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বঙ্গে চালু হল কৃষি সখী (Krishi Sakhi) প্রকল্প। যার মাধ্যমে মহিলাদের দেওয়া হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ।

রাজ্যে নতুন প্রকল্প কৃষি সখী

সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে আয়োজিত দক্ষিণ দিনাজপুর কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের মাঝিয়ান ক্যাম্পাসে এই প্রকল্প নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। উক্ত জেলার আটটি ব্লক থেকে মোট ৬০ জন মহিলাকে দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। রাজ্য সরকারের মূল উদ্দেশ্য একটাই, রাসায়নিক বা কীটনাশক মুক্ত চাষাবাদ ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এমনকি পোকা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে উন্নত মানের বীজ নির্বাচন, মাটি কিংবা ফসলের পরিচর্যা সহ একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেই খবর। প্রত্যেক কৃষি সখীদের হাতে ধরিয়ে শেখানো হচ্ছে, কীভাবে রাসায়নিকের উপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিকভাবে চাষাবাদ করা যায়।

রাজ্য প্রশাসনের উদ্দেশ্য একটাই, বিষমুক্ত খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন এবং কৃষকদের খরচ কমানো। এমনকি এ নিয়ে দেশজুড়ে জাতীয় কৃষি মিশন কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলেও খবর। তবে আপাতত এই প্রশিক্ষণ শুধুমাত্র দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জন্যই চালু করা হয়েছে। ধাপে ধাপে তা গোটা বাংলায় চালু হবে বলেই খবর। আপাতত এই জেলায় আটটি ব্লকে মোট ৩ লক্ষ ১০ হাজার কৃষক রয়েছেন। এমনকি এই জেলাটিতে ধান, পাট, গম ইত্যাদি চাষ বেশি পরিমাণে হয়।

আরও পড়ুন: ডিম ছোঁড়ার পর তৃণমূল নেতাকে জেলের মধ্যেই ‘থুতু থেরাপি’, চাঞ্চল্য হাওড়ায়

এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় মোট ১ লক্ষ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়। পাশাপাশি ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে হয় বরো ধান চাষ। এছাড়া ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ, ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়ে থাকে। এমনকি এই জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে কৃষকদের উন্নয়নের জন্য চালু করা হয়েছে একাধিক প্রকল্প। তাছাড়া কৃষকরা ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার সুযোগ পাচ্ছে বলেও খবর। তবে এবার মহিলাদের টার্গেট করেই জেলায় চালু হয়েছে এই কৃষি সখী প্রকল্প, যার মাধ্যমে রাসায়নিকের উপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে হবে চাষাবাদ।