সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, নেত্রী কিংবা সাধারণ কর্মীদের উপর চলছে একের পর এক ডিম থেরাপি। সোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়েই শুরু হয়েছিল এই ডিম ছোঁড়াছুঁড়ি। তারপর জল অনেকদূর গড়িয়েছে, একাধিক তৃণমূল নেতা থেকে শুরু করে প্রাক্তন মন্ত্রীরা খেয়েছেন ডিম থেরাপি। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেও করা হয় হামলা। তবে এবার হাওড়ার (Howrah) তৃণমূল নেতাকে ডিম থেরাপির পর জেলের মধ্যেই দেওয়া হল ‘থুতু থেরাপি’!
তৃণমূল নেতাকে থুতু থেরাপি
গতকাল সকালে হাওড়ার প্রাক্তন তৃণমূল মেয়র পরিষদ শ্যামল মিত্রকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ। তবে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় জনগণ যে যেদিক থেকে পারে, ডিম ছুঁড়তে থাকে। এমনকি কোনও মতে তিনি সেখান থেকে বেঁচে ফেরেন। নিউটাউন থেকে তাঁকে গতকাল গ্রেফতার করা হয়। চুরি, দুর্নীতি, তোলাবাজি, ভীতি প্রদর্শন থেকে শুরু করে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই তৃণমূলের নেতার বিরুদ্ধে। তবে শনিবার তাঁকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় জনরোষ প্রদর্শন করা হয়। এমনকি একের পর এক ডিম ধেয়ে আসতে থাকে তাঁর দিকে।
গতকাল আদালতে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর উপর ডিম থেরাপির বদলে দেওয়া হয় ‘থুতু থেরাপি’। গতকাল একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শিবপুর থানার জেলের মধ্যে থাকা অবস্থাতেই তাঁকে লক্ষ্য করে কয়েকজন মুখ থেকে থুতু ছুঁড়ছে। ঘটনায় থানার মধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি অনেকেই মজা করে বলছে, “যেমন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল, একেবারে উপযুক্ত শিক্ষা হয়েছে।”
আরও পড়ুন: সর্ষের তেলের দাম ২২০ টাকা পার, দুশ্চিন্তার কালো মেঘ মধ্যবিত্তর হেঁশেলে
প্রসঙ্গত, এই শ্যামল মিত্র হাওড়া পুরসভার একজন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ছিলেন বলেই অভিযোগ। পাশাপাশি পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পরিষদ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। এলাকার মানুষজনদের ভীতি প্রদর্শন থেকে শুরু করে মহিলাদের শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি, দুর্নীতি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে রাজ্যে পালাবদলের পরেই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। শেষমেষ তাঁকে গ্রেফতার করে জনরোষ প্রদর্শন করে আমজনতা।










