এক নম্বরেই সব এমারজেন্সি পরিষেবা, ডেডলাইন বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এবার থেকে জরুরীকালীন পরিস্থিতিতে মনে রাখতে হবে শুধু একটা নম্বর (112 Emergency Number)। পুলিশি সহায়তা হোক কিংবা অ্যাম্বুলেন্স, ডায়াল করতে হবে 112 নম্বর। গোটা দেশজুড়ে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র এই একটি নম্বর চালু করার পরিকল্পনা চলছিল বহু আগে থেকেই। অবশেষে সেই পরিকল্পনা মেনেই যাতে দেশের প্রত্যেক প্রান্তে এই 112 নম্বরটিকে ইমারজেন্সি নম্বর হিসেবে চালু করা হয় সেজন্যেই এবার ডেডলাইন বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ভারতে পুলিশি সহযোগিতা থেকে শুরু করে নারী সুরক্ষা, অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যে ইমারজেন্সি নম্বর আলাদা আলাদা। ভুক্তভোগী থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের দাবি, জরুরী পরিষেবার ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা নম্বর থাকলে তাদের যথেষ্ট সমস্যা হয় সাধারণ মানুষেরই। তাই এমন বিভিন্ন নম্বর উঠিয়ে গোটা দেশের সমস্ত জরুরি পরিষেবাকে একটি নম্বরের আওতায় নিয়ে আসা হোক।

সম্প্রতি এমন দাবিতে তোলা এক মামলায় রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেকে মহেশ্বরী এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দ্রকরের ডিভিশন বেঞ্চ একেবারে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে 112 হেল্পলাইন নম্বরের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আলাদা আলাদা নয় বরং জরুরী পরিষেবার ক্ষেত্রে Emergency Response System এর আওতায় থাকবে শুধুমাত্র একটি নম্বর। সেটা ডায়াল করেই দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে।

বলাই বাহুল্য, আমেরিকায় 919 নম্বরটি যেভাবে সমস্ত ধরনের জরুরী ভিত্তিক বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কাজে লাগে ঠিক একইভাবে ভারতেও এমনই একটি নম্বর চালু করতে চাইছে সরকারও। কেন্দ্রীয় সরকার মনে করে, নারী সুরক্ষা থেকে শুরু করে দমকল, পুলিশী সহায়তা, অ্যাম্বুলেন্স সহ অন্যান্য জরুরী পরিষেবার ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা নম্বর মনে রাখা যথেষ্ট কষ্টকর। তাই প্রত্যেক পরিষেবা একটি মাত্র নম্বর 112 এর অধীনে নিয়ে আসা হবে।

অবশ্যই পড়ুন: ডুয়ার্স অতীত, বর্ষার ঘুরে আসুন পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা পুরুলিয়ার এই অফবিট ঠিকানা থেকে

প্রসঙ্গত, এদিন ইমারজেন্সি নম্বর নিয়ে নির্দেশ দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সংবিধানের Right to Life অর্থাৎ 21 নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আদালত এও জানায়, ট্রমা কেয়ার কিন্ত Right to Life এর অধীনে। সুপ্রিম কোর্ট এদিন খুব পরিষ্কারভাবে জানায়, আগামী তিন মাস সময় রয়েছে। তার মধ্যেই দেশের প্রত্যেকটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে 112 ইমারজেন্সি নম্বরটিকে চালু করার আগে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে জরুরি অবস্থায় বা দুর্ঘটনার সময়ে যেসব ব্যক্তিরা এগিয়ে আসবেন পরবর্তীতে তাঁদের যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয় সেই দিকটাও প্রশাসনকে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।