অপারেশনের সময় ভুল করে কেটে দেয় অন্য শিরা! ‘আল্লাহর ইচ্ছে’ বলে দায় এড়ালেন ডাক্তার

Published:

Delhi Doctor Case

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশজুড়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার গাফিলতির বিভিন্ন চিত্র প্রতিনিয়ত সামনে আসে। এমনই এক ঘটনা ঘটল দিল্লির এক মহিলার সাথে (Delhi Doctor Case)। পিত্তথলির অপারেশনের সময় ডাক্তার ভুল করে ওই মহিলার একটি অন্য শিরা কেটে ফেলেন। তবে এ বিষয়ে ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তিনি জানান, যে এটি ঈশ্বরের ইচ্ছা ছিল! একজন দায়িত্ববান ডাক্তারের মুখে এরকম কথা শুনে কার্যত থ হয়ে যান ওই মহিলা। বিষয়টি ভাইরাল হতেই তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া।

ডাক্তারের অবহেলার বড়সড় চিত্র রাজধানীতে

সূত্রের খবর, রাজধানীর শাহদারা এলাকার কর্দম পুরীর বাসিন্দা নূর সাবা নামে এক মহিলা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গাজিয়াবাদের লোনির আলভী নার্সিং হোমে পিত্তথলি অপসারণের অপারেশন করান। তবে অস্ত্রোপচারে বড়সড় ভুল করে বসেন ডাক্তার। যদিও তিনি তখন বিষয়টি বুঝতে পারেননি। কিন্তু ১৫ থেকে ২০ দিন পর তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করে। এমতাবস্থায় তিনি ফের চিকিৎসার জন্য নার্সিং হোমে ফিরে আসেন। তারপর সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অন্য একজন ডাক্তার জন্ডিস সনাক্ত করেন ওই রোগীর শরীরে। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসকরা ঠিক মতো রোগ শনাক্ত করতে পারেননি। সেই কারণেই তিনি বাধ্য হয়ে অন্য আরেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান।

তবে সেখানে গিয়ে ধরা পড়ে আসল কেচ্ছা। সেখানকার ডাক্তাররা তাঁকে জানান, আগের অপারেশনের সময় ভুল করে একটি স্নায়ু কেটে দেওয়ার কারণে তাঁর শরীরে জন্ডিস বাসা বাঁধে। এরপর তিনি ফের ওই নার্সিং হোমে যান ডাক্তারের জবাবদিহিতা নিতে। কিন্তু সেই ডাক্তারকে জানালে তিনি তাঁর দোষ স্বীকার করার পরিবর্তে জানান যে, ঘটনাটি ঈশ্বরের ইচ্ছা ছিল। এমনকি মহিলা যখন বলেন যে “যদি আমি মারা যেতাম?” এই প্রশ্নের উত্তরেও ডাক্তার বলেন, “সেটা আল্লাহর ইচ্ছাতেই হত।” এমনকি যখন ওই মহিলা বিষয়টি জানাজানি করবেন বলে ডাক্তারকে ভয় দেখান, তখন ওই ডাক্তার ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার পরিবর্তে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন: গ্রেফতার ২০, “প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব” তামান্নার খুনিদের নাম প্রকাশ করে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

কিন্তু পরে এসডিএম-কে গোটা বিষয় খুলে বলেন ওই মহিলা। তড়িঘড়ি মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ডাক্তারকে তলব করা হয়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী ডাক্তার নিজের অবহেলার কথা অস্বীকার করেন। কিন্তু ওই মহিলা নার্সিং হোমের কাছে ক্ষতিপূরণ চান। এমনকি এই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ডাক্তারের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নেট নাগরিকরা। কেউ কেউ লিখছেন, নাদিমের মতো এরকম ডাক্তাররা প্রতারক আর রোগীদের বিভ্রান্ত করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাঁর ডাক্তারি লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। এখন দেখার তাঁর বিরুদ্ধে আদৌ প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয় কিনা।