“মোদী আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পারতেন?” এবার মনমোহন সরকারের প্রসঙ্গ টানলেন অভিজিৎ

Published:

Abhijeet Dipke

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমান সরকারকে বিরোধিতা করতে গিয়ে এবার আগের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke)। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি বিধিনিষেধ এবং সেন্সরশিপের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এবার তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি। এমনকি বর্তমান সরকারের সোশ্যাল মিডিয়ার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে তিনি ইউপিএ আমলের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংয়ের কার্যকালের কথা স্মরণ করিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, তৎকালীন সরকার যদি আজকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় রাশ টানত, তাহলে নরেন্দ্র মোদী কি বর্তমান জায়গায় পৌঁছতে পারতেন?

সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে মনমোহন সিং সরকারের প্রসঙ্গ টানলেন অভিজিৎ

সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি এবং মনমোহন সিং জমানার সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এবার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে অভিজিৎ দীপকে লিখেছেন, “২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন মনমোহন সিং সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যমগুলি বিরাট ভূমিকা পালন করেছিল। সেই সময় ইউপিএ সরকার বা মনমোহন সিং এই প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর কোনও ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেননি।”

আরও পড়ুন: ৪ রাজ্যে ব্যালট পেপারে MLC নির্বাচনে কটা আসন পেল কংগ্রেস?

অভিজিৎ লেখেন, “একবার ভাবুন, মনমোহন সিং যদি ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপে সেই রকম কড়াকড়ি করতেন, যেমনটা আজ নরেন্দ্র মোদী ইনস্টাগ্রামের ক্ষেত্রে করছেন, তাহলে কি মোদী আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পারতেন?” তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার ক্রমাগত সমালোচনামূলক পোস্ট মুছে দিয়ে নিজেদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করে আসছে। তবে ইউপিএ সরকারের আমলে এমনটা হত না।

সিজেপি নেতার দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিদিন ইনস্টাগ্রাম থেকে হাজার হাজার পোস্ট এবং ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপ কোনও কাজে আসবে না বলেই মনে করছেন তিনি। তিনি আরও লেখেন, “সরকার হয়ত একটি মৌলিক বিষয় এড়িয়ে যাচ্ছে। ইনস্টাগ্রাম কেবল একটি মাধ্যম, যেখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের মনের প্রশ্ন তুলে ধরেন। এই প্রশ্নগুলির প্রকৃত কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে বাস্তব সমাজের মাটিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে।”

আরও পড়ুন: “ও ভালো ছাত্র, রোজ রাতে গীতা পড়ত” সন্তান হারিয়ে আবেগঘন মন্তব্য প্রহ্লাদের মায়ের

অভিজিতের আরও সংযোজন, “অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিলে জনগণের প্রশ্ন শেষ হয়ে যাবে না। উল্টে এই ধরনের সেন্সরশিপ সেই নাগরিকদের মনে সরকারের প্রতি অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলবে। যাদের কাছে সরকারের প্রকৃত জবাবদিহি করার কথা।” এমনকি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতেও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন অভিজিৎ। ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দিল্লির বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত পুলিশি তৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আসল নিরাপত্তার চেয়ে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে বেশি মনোযোগী।

google button