সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জেদ আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে সবকিছু সম্ভব তা আবারও প্রমাণ করে দেখালেন উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার বাসিন্দা রবি তামতা। কোনও কিছু করে দেখাতে বড় বড় ডিগ্রি বা বহু মূল্যের উপকরণের প্রয়োজন পড়ে না। কোনও আনুষ্ঠানিক ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা বা হাইটেক ল্যাব ছাড়াই কেবলমাত্র ইন্টারনেট এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি একটি সিঙ্গেল সিটার ইলেকট্রিক ফ্লাইং কারের (Flying Car) প্রোটোটাইপ তৈরি করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলেন। জানা যাচ্ছে, তাঁর এই অভিনব উড়ন্ত গাড়িটির নাম HAPIDA SKYNeX।
কে এই রবি তামতা?
হিন্দুস্তানের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, রবি উত্তরাখণ্ডের আলমোড়ার জগন্নাথ ধামের কাছে অবস্থিত কফলিখান গ্রামের সাধারণ এক পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা হরিশ রাম একজন মেকানিক। পরিবারে কোনও রকম বড় প্রযুক্তিগত ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলেও রবি নিজের ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানেননি। গ্রামের একটি জুনিয়র হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি নৈনিতাল ক্যাম্পাস থেকে আর্টসে ব্যাচেলার ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর বছরের পর বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ইন্টারনেট থেকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞানের মাধ্যমেই তিনি এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেন।
আসলে রবির এই উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছে পাহাড়ি অঞ্চলের যাতায়াত সংক্রান্ত বিভিন্ন রকম প্রতিকূলতা। পাহাড়ি এবং দুর্গম এলাকায় যাতায়াত করা বিশেষ করে কোনও মেডিক্যাল ইমারজেন্সির সময় দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন আর ব্যয়বহুল। তার পাশাপাশি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় এই সমস্যা এড়াতেই রবির মাথায় এই পার্সোনাল এয়ার মোবিলিটি বা উড়ন্ত যানের ধারণা আসে।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের নাম দিল কোন দেশ? মানেই বা কী? বাংলায় কতটা প্রভাব পড়বে জেনে নিন
গাড়ির প্রধান বৈশিষ্ট্য
রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, এই গাড়িটি কোনও রানওয়ে ছাড়াই উল্লম্বভাবে টেকঅফ এবং ল্যান্ডিং করতে পারে। পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তির আদলে এতে একাধিক ইলেকট্রিক মোটর এবং প্রোপেলার ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া এটি সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত একটি যান। যার জন্য কোনও রকম এভিয়েশন ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানির প্রয়োজন পড়ে না। আর এই প্রোটোটাইপে একটি হালকা বডি ও ককপিট রাখা হয়েছে। কিন্তু এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাণিজ্যিক উপায়ে যাত্রী পরিবহন করতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ২০১৫ সালে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন রবি। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে তিনি এই প্রোটোটাইপ তৈরি করে ফেলেছেন।










