অনন্যা সরকার, উত্তরপ্রদেশ: ভারতীয় রেলের (Indian Railways) আধুনিকীকরণ নিয়ে কথা উঠলে সাধারণত ‘অমৃত ভারত এক্সপ্রেস’, ‘বুলেট ট্রেন’ বা ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের’ প্রকল্পের মতো প্রিমিয়াম প্রজেক্টগুলি মধ্যেই আলোচনা সীমিত থাকে। কিন্তু যে আসল যে উন্নতি ভারতীয় অর্থনীতি এবং রেল পরিকাঠামোকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করেছে, তা এমন সব রেলওয়ে ট্র্যাকে করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ রেলযাত্রীরা কখনও যাতায়াত করেন না। এটি হল ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর (Dedicated Freight Corridor / DFC)। নীরবে করে যাওয়ার রেলের এই পরিকাঠামোগত উন্নতি দেশের লজিস্টিকস এবং পণ্য পরিবহনের পুরো কাঠামোকেই পাল্টে দিয়েছে। এখন, বন্দে ভারত মালবাহী ট্রেন (Vande Bharat Freight Train) সুপারফাস্ট ট্রেনের গতি তুলে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
পরীক্ষামূলক যাত্রায় দেশের প্রথম ‘বন্দে ভারত ফ্রেইট ইএমইউ’ তুললো ১৪৫ কিমি/ঘণ্টা গতি
এক্সপ্রেস মালবাহী পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে, ভারতীয় রেলের পশ্চিম মধ্য রেলওয়ের কোটা বিভাগে দেশের প্রথম বন্দে ভারত প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক মালগাড়ির (Vande Bharat Freight Train) প্রযুক্তিগত পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়েছে। রিসার্চ ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (RDSO)-এর তদারকিতে, ১৬টি কোচ বিশিষ্ট এই এই পণ্যবাহী ট্রেনটি পরীক্ষামূলক যাত্রার প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ ১৪৫ কিমি/ঘণ্টা গতি অর্জন করে সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সিনিয়র রেলওয়ে পাবলিক রিলেশনস অফিসার সৌরভ জৈন বলেন, আগামী এক মাস ধরে কোটা-নাগদা-সাওয়াই মাধোপুর সেকশনে এই ট্রায়াল রান চলবে।
আরও পড়ুন: নিম্নচাপে শাপে বর! দিঘায় ইলিশের বন্যা বয়ে যাবে, কমতে পারে দামও
বন্দে ভারত ফ্রেইট ইএমইউ কী?
আইসিএফ চেন্নাই দ্বারা নির্মিত এই ফ্রেইট ইএমইউ-টি ভবিষ্যতের ই-কমার্স, কুরিয়ার পরিষেবা, দুধ ও সবজির মতো দ্রুত পচনশীল পণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস সময়মতো ডেলিভারির জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। এর জন্য আলাদা কোনো ইঞ্জিনের প্রয়োজন হয় না। বন্দে ভারত ট্রেনের মতো এর মোটরও বগিগুলোর নীচে বসানো থাকে, যা এর গতি দ্রুত বাড়াতে সাহায্যে করে। এটি একটি সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক পার্সেল ট্রেন, যা কোনো শক্তির অপচয় ছাড়াই ঘণ্টায় ১৪৫ থেকে ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে।
🚆SPEED + TECHNOLOGY = A NEW ERA FOR INDIAN RAIL LOGISTICS!🇮🇳@RailMinIndia has successfully conducted the oscillation trial of India’s first Vande Bharat platform-based Superfast Parcel Freight EMU at speeds of up to 145 km/h in empty condition.
📍 Kota Division, West Central… pic.twitter.com/IJDfLjihA7
— Jharkhand Rail Users (@JharkhandRail) August 20, 2026
উল্লেখযোগ্যভাবে, বহু বছর ধরেই মালবাহী ট্রেন ও যাত্রীবাহী ট্রেন একই ট্র্যাকে চলাচল করে আসছে, যা ভারতীয় রেলের কাছে একটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এখন, ডিএফসি-এর জন্য মালবাহী ট্রেনগুলোকে তাদের নিজস্ব একটি নির্দিষ্ট পথ পেয়েছে। আগে যেখানে দিল্লি থেকে মুম্বাই বা লুধিয়ানা থেকে কলকাতায় পণ্যবাহী ট্রেনগুলি পৌঁছাতে ৪০ থেকে ৫০ ঘণ্টা সময় লাগাতো, সেখানে এখন ডিএফসি ট্র্যাকের দৌলতে এই দূরত্ব মাত্র ২০ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অতিক্রম করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: এক্সপ্রেস ট্রেনও ফেল! ১৪৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা ছুটছে বন্দে ভারত মালগাড়ি
তবে, মালবাহী ট্রেনগুলো এখন শুধু দ্রুতগতিতেই চলছে না, তার সাথে যাত্রীবাহী ট্রেনের মতো একটি সময়সূচী মেনেও চলাচল করছে। এমনকি, সড়কপথে যাতায়াতকারী বড় মালবাহী ট্রাকগুলোকে সরাসরি ট্রেনের বগিতে বোঝাই করা যাচ্ছে, যার ফলে জ্বালানি ও সময় সাশ্রয় হচ্ছে এবং দূষণও কমছে।
এদিকে, যাত্রী চলাচলের জন্য ব্যবহৃত প্রধান রেলপথে মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় রাজধানী, বন্দে ভারতের মতো অন্যান্য সুপারফাস্ট যাত্রীবাহী ট্রেন লেট হওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমে গেছে এবং সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা যাচ্ছে। সারা দেশে ডিএফসি করিডোর বাস্তবায়িত হলে ট্রেন লেট হওয়ার সমস্যা কার্যত শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।










