সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০২১-র বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে পা ভাঙেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এমনটাই দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। এমনকি প্রকাশ্যে এনেছেন পিজি হাসপাতালের রিপোর্ট। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই পা ভাঙার খবর আসলে মিথ্যা। সেই সময় মোটেই তাঁর পা ভাঙেনি। এমনকি গতকাল নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে হাসপাতালের রিপোর্ট প্রমাণ হিসেবে প্রকাশ্যে তুলে ধরেন তিনি। সেই সূত্রে আজ নন্দীগ্রামেও মমতাকে চরম কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর।
নন্দীগ্রাম থেকেও মমতার পা ভাঙা নিয়ে কটাক্ষ
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার আগে রবিবার শেষ প্রচার। বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে প্রচারে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের টেঙ্গুয়া থেকে থানার মোড় পর্যন্ত মিছিল চলে আজ। সামনেই থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেখানে দাঁড়িয়েই আজ মমতাকে ফের একবার কটাক্ষ করলেন তিনি। বললেন, “মার্চের ১০ তারিখ পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যে দিবস পালন করলে কেমন হয়?” পাশাপাশি এদিন নন্দীগ্রামে জয়ের আত্মবিশ্বাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যত বেশি ভোট পড়বে, তত জয়ের ব্যবধান বাড়বে। নন্দীগ্রামে ৭২ হাজার সংখ্যালঘু রয়েছে। হাজারের বেশি সংখ্যালঘু মানুষ এদিন মিছিলে হাঁটছেন। তারা সকলেই বিজেপিকে সমর্থন করবে।”
উল্লেখ্য, ২০২১-র ১০ মার্চ ভোটের প্রচারে গিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন বলেই অভিযোগ। তৃণমূল শিবিরের দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উপর নন্দীগ্রামে হামলা চালায় বিজেপি। এমনকি সেই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর পা ভেঙে যায় বলেও দাবি করা হয়। কার্যত, পায়ে প্লাস্টার করে হুইলচেয়ারে বসে ভোটের প্রচার করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি ভাঙা পায়ে ‘খেলা হবে’ স্লোগানও দেন তিনি। পাশাপাশি ফুটবল ছুড়ে মারতেও দেখা যায় মমতাকে।
আরও পড়ুন: পেনশন আটকে মৃত শিক্ষাকর্মীর, ডিআই-প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের
এদিকে গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর ওই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের এই জখমকে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারী যে রাজনীতি করছেন তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং রুচিহীন। কারও ব্যক্তিগত আঘাত নিয়ে কুৎসা বা অপপ্রচার করা আপত্তিজনক। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লেগেছিল। তাঁর চিকিৎসা যারা করেছিলেন তারা সবাই জানেন বলেই কুণালের দাবি। এমনকি বিধায়ক আরও বলেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের চোট এখনও সারেনি।










