অনন্যা সরকার, পূর্ব মেদিনীপুর: একের পর এক নিম্নচাপের কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আবহাওয়া দফতর। এতে আদতে লাভ হয়েছে বলেই মনে করছেন দিঘার মৎস্যজীবীরা। মঙ্গলবার আবহাওয়ার উন্নতির পর, বুধবার ইলিশের (Ilish) সন্ধানে মৎসশিকারীদের ট্রলারগুলো ফের সমুদ্রে পাড়ি দেয়। দিঘার মৎস্যজীবীদের বিশ্বাস, নিম্নচাপের কারণে সৃষ্ট এই সাময়িক বিরতি তাঁদের জন্য শেষ পর্যন্ত লাভজনকই হবে এবং প্রচুর পরিমাণে ইলিশ সহ সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়বে জালে।
আরও ইলিশের আশায় দিঘার মৎস্যজীবীরা
চলতি মাসের শুরুর দিকে নিম্নচাপের আগে পর্যন্ত দিঘায় প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ে। শুধু তাই নয়, নিম্নচাপের কারণে সমুদ্র থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসতে বাধ্য হওয়া ট্রলারগুলোও প্রচুর পরিমাণে ইলিশ নিয়ে মোহনায় এসেছিল। নিম্নচাপ পর্ব কেটে যাওয়ায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো আবারও ইলিশের সন্ধানে সমুদ্রে পারি জমিয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বর্ষণ হয় এবং সেই বৃষ্টির জল নদী ও নালা বেয়ে সমুদ্রে গিয়ে মিশেছে। এদিকে, বৃষ্টির ফলে সমুদ্রের জল ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায় এবার প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ট্রেনের ভরসা বাদ দিন, বিমানে উড়ে যান উত্তরবঙ্গ, খরচও একদম কম
দিঘা মোহনার মৎস্য নিলাম কেন্দ্রের মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের ধারণা, বৃষ্টির ফলে সমুদ্রের নোনা জলের সাথে মিষ্টি জলের মিশেছে এবং সমুদ্রের তাপমাত্রাও কমেছে – এই দুই কারণে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক নিম্নচাপের আগেও দিঘা মোহনার নিলাম কেন্দ্রে গড়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ টন ইলিশ এসেছিল। জেলেরা আশা করছেন যে, আবহাওয়ার পরিবর্তন এই পরিমাণ আরও বাড়বে। অধিকাংশ মৎস্যজীবী আশা করছেন যে, আগস্ট মাসের শেষের দিকে দিঘায় ইলিশের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
আরও পড়ুন: কখনও মেলেনি এত বড় মাছ! রাজা ইলিশ উঠল জালে, ওজন ও দাম শুনে ভিরমি খাবেন
দিঘার মৎস্য নিলাম কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিম্নচাপ ঘনীভূত হওয়ার আগের সপ্তাহে দিঘায় ২০০ টনেরও বেশি ইলিশ মাছ এসেছিল। এখন নিম্নচাপের ফলে মাছ ধরার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন মৎসশিকারীরা, যার ফলে প্রতিদিন দিঘা নিলাম কেন্দ্রে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ আসতে পারে। এমনকি আগস্টের শুরুর দিকের যত পরিমাণ মাছ এসেছিল, তার থেকেও এই পরিমাণ বেশি হতে পারে। কোনো কোনো মৎস্যজীবী মনে করছেন, প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ টন মাছ ধরা পড়তে পারে।










