আমেরিকায় ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার B-52 বোমারু বিমান, নিহত ৮

Published:

US Air Force Flight Crash

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের পড় এবার যুক্তরাষ্ট্র (United States)। ক্যালিফর্নিয়ায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু অন্তত ৮ জনের। মার্কিন বায়ূসোনার একটি B-52 স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় (US Air Force Flight Crash)। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেসে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১১:২০ মিনিট নাগাদ ঘটে এই ঘটনা। সূত্রের খবর, বিমানটি একটি পরীক্ষামূলক মিশনের অংশ নিচ্ছিল। রানওয়ে থেকে উড়তেই আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি মাটিতে আছড়ে পড়ে, আর মুহূর্তের মধ্যেই জ্বলে ওঠে তা। এমনকি দুর্ঘটনার পর আকাশে বিশাল ধোয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

মৃতদের মধ্যে ছিল বোয়িং কর্মীও

মার্কিন বায়ুসেনার পক্ষ থেকে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, মৃতদের মধ্যে সামরিক কর্মী, সরকারি আধিকারিক এবং প্রতিরক্ষা সংস্থার চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও ছিলেন। এমনকি তাদের মধ্যে বোয়িং সংস্থার দুই কর্মীও রয়েছেন। এডওয়ার্ডস এয়ারফোর্স বেসের কর্নেল জেমস হেইস সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, “আজ আমরা ৮ জন অসাধারণ আমেরিকানকে হারালাম। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে প্রাথমিক তদন্তে এটিকে বেঁচে থাকার সম্ভাবনাহীন বলেই আখ্যা করা হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, বিমানটি রানওয়ে ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে আগুন ধরে যায়। আর গোটা ঘটনাটি এয়ারফোর্স বেসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে ঘাঁটির সমস্ত বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, বিমানটি ঘাঁটির রাডার আধুনিকীকরণ কর্মসূচির কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে। এমনকি তদন্তে অন্তত ৩০ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বিস্তারিত প্রযুক্তিগত তদন্ত শেষ হতে ছয় মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুন: ফ্রি বিদ্যুৎ থেকে ৭৮ হাজার টাকার সুবিধা, পিএম সূর্যঘর প্রকল্পে কীভাবে করবেন আবেদন?

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে মার্কিন প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানান। একাধিক মার্কিন সাংসদ এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, “দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রতিদিন যে ঝুঁকি নিয়ে সেনা কর্মীরা কাজ করেন, এই দুর্ঘটনা তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতিফলন।”