১ কোটি অনুপ্রবেশকারীকে খাদ্যশস্য! মমতা সরকারের ১৮ হাজার কোটির রেশন দুর্নীতি

Published:

Ration Scam

অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এক এক করে মমতা জমানায় বিভিন্ন প্রকল্পে হওয়া দুর্নীতিগুলি ফাঁস হচ্ছে। তা সে আমফানের আর্থিক সাহায্য আত্মসাৎ করা হোক বা যুবশ্রী ও লক্ষ্মীর ভান্ডারে অযোগ্য সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্তিকরণ – এই প্রকল্পগুলিকে নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। এবার রেশন ব্যবস্থাতেও (Ration Scam) গত সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অল ইন্ডিয়া ফেরার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন দাবি করেছে যে, তৃণমূল জমানায় শুধু রেশন ব্যবস্থাতেই অন্তত ১৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এমনকি প্রায় ১ কোটি ভুয়ো রেশনকার্ড হোল্ডার সুবিধা পেয়েছেন।

নানাভাবে রেশন ব্যবস্থায় বিপুল অর্থের নয় ছয় 

অল ইন্ডিয়া ফেরার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন জানিয়েছে যে, পূর্বতন সরকারের আমলে দুইভাবে জনগণের টাকা নয় ছয় করা হয়েছে। প্রথমেই কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার সময়তেই বিরাট আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, একজন কৃষকের কাছ থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৪৫ কেজি পর্যন্ত ধান কিনতে পারে সরকার। কিন্তু ২০২১-২২ অর্থবর্ষ পর্যন্ত দেখা গিয়েছে যে, একই আধার কার্ড দেখিয়ে একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন জেলায় ৪৫ কেজি করে ধান কেনা হচ্ছে। মানে দেখা যাচ্ছে একজনের থেকে একই সময়ে আলাদা আলাদা জেলা থেকে সরকার ধান কিনছে, যা কার্যত সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, ওই সময় অনেক রাইস মিল থেকেও প্রচুর পরিমাণে ধান কিনেছিল রাজ্য সরকার। রেশন ডিলার সংগঠনটির দাবি, খাতায়কলমে থাকলও, ওই ধানের অনেকটাই সরকারি গুদামে পৌঁছায়নি। ফলে সেসময় ধানের সংকটও তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: এই শর্তগুলি না পূরণ করলে পাবেন না রেশন, যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার

অন্যদিকে, রেশন বন্টনের ক্ষেত্রেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি ডিলারদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, অন্তত ১ কোটি অযোগ্য বা ভুয়ো রেশন কার্ড হোল্ডার রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে রেশন সুবিধা পাচ্ছেন। রেশন ডিলারদের কথায়, ওই ১ কোটি গ্রাহকের সিংহভাগই ছিল অনুপ্রবেশকারী। কেননা বায়োমেট্রির মাধ্যমে রেশন দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু হলে প্রায় এক কোটি মতো গ্রাহক বেমালুম হাওয়া হয়ে যান। এই দু’ভাবে অর্থ নয়ছয় করে অঙ্কটা প্রায় ১৮ হাজার কোটিতে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: SIR-এ নাম বাদ গেলেই বন্ধ হবে রেশন? বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের

অল ইন্ডিয়া ফেরার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, এই বিষয়গুলি সবই তাঁরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলেন, তবে লাভ কিছু হয়নি। পরে সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা শিশির অধিকারীর পরামর্শ মেনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়। সরকার এখন এটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। শোনা যাচ্ছে, গত ১৭ জুলাই থেকে রাজ্যের ভিজিল্যান্স বিভাগ এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।