অনন্যা সরকার, পশ্চিম বর্ধমান: বর্ধমানের প্রধান প্রধান রুটগুলোতে ‘টোটো’ (ই-রিকশা) ও অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে বাস মালিকদের আন্দোলন জারি আছে। এই দাবির জেরে আগেই আসানসোল মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশন দোমোহানি-আসানসোল রুটে মিনিবাস চলাচল (Bus Service) বন্ধ করে দিয়েছিল। আর এখন, আসানসোলের মতোই বর্ধমান শহরের পরিবহন কর্মীরাও মিনিবাস ও টাউন সার্ভিস বাস নিয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। বাস কর্মীরা সোমবার থেকে সারা বর্ধমান শহর জুড়ে বিভিন্ন রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য মিনিবাস পরিষেবা বন্ধ রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
বর্ধমানের কোন কোন রুটে বাস পরিষেবা বন্ধ থাকবে?
শোনা যাচ্ছে, সোমবার থেকে পূর্বাশা বাস স্ট্যান্ড (নবাবহাট) থেকে আলিশা বাস স্ট্যান্ড (উল্লাস) এবং পূর্বাশা থেকে পূর্ণা ভবন পর্যন্ত রুটগুলিতে বাস পরিষেবা বন্ধ থাকবে। এই রুটগুলিতে প্রতিদিন প্রায় ৮০টি মিনিবাস চলাচল করে। যদিও বাস মালিকদের সমিতিগুলি জানিয়েছে যে, এই অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি তাদের সংগঠন থেকে আসেনি। এক বাস চালক বলেন, টোটোর আধিপত্য এতটাই বেড়ে গেছে যে, তারা এখন যাত্রী তোলার জন্য বাসের ঠিক সামনে এসে দাঁড়ায়। আর এটা চলছে কোনও নিয়মকানুনের পরোয়া না করেই। টোটোর জ্বালায় দিনে ২০০ টাকাও লাভ করতে পারেন না বলে অভিযোগ করছেন চালকরা। ঠিকমতো পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারছেন না, খুবই সমস্যায় পড়েছেন তারা। তাই বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্ধমান টাউন সার্ভিস বাস মালিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ পাল জানিয়েছেন, প্রায় ৮০টি মিনিবাস রয়েছে এই রুটগুলিতে। কিন্তু শহরজুড়ে টোটোর অত্যধিক চলাচলের কারণে বাস ব্যবসার আজ পড়তি অবস্থা। অবৈধ টোটো চলাচলের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে দাবি জানান তিনি। তার সাথেই তিনি জানান যে, বাস পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত তাঁরা নেননি।
আরও পড়ুন: বাগদার দিনমজুরের খুলল কপাল, লটারিতে ১ কোটি জিতে চোখে বড় স্বপ্ন প্রভাতের
এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন বর্ধমান মিনিবাস কল্যাণ সমিতির সম্পাদক প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস পরিষেবা স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি বাসের চালক ও কন্ডাকটরা নিজেরাই নিয়েছেন। এর পিছনে সংগঠনের কোনও ভূমিকা নেই। তবে, টোটোর কারণে সৃষ্ট এই উপদ্রব দমনে পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন: খসে পড়ছে দেওয়ালের রং? ছোট্ট একটি কাজ করলেই মিলবে সমাধান
বর্ধমান শহরের পাশাপাশি, আসানসোলের পরিস্থিতিও প্রায় একই রকম। আসানসোল শিল্পাঞ্চলে মোট ১৮২টি মিনিবাস রুট আছে। তবে, টোটো ও অটোর সংখ্যা উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ায় বাসগুলি লোকসানের মুখে পড়েছে। সেই কারণে প্রায় ৬০টি রুটে মিনিবাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার দোমোহনী-আসানসোল রুটেও মিনিবাস চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। তবে প্রায় ৮০টি মিনিবাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ধমান শহরের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে চলেছে। তাই নিত্য যাত্রী, ছাত্রছাত্রী থেকে স্থানীয় বাসিন্দা – সকলকেই বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হবে।










