আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বাজার থেকে রাসায়নিকযুক্ত জিনিসপত্র কেনার বদলে প্রাকৃতিক উপায়ে দৈনন্দিন কাজের জিনিস তৈরি করতে পারলে শারীরিক ক্ষতি অনেকটাই কমে এবং অর্থ কিছুটা সঞ্চয় হয়। তাই অনেকেই পুরনো দিনের দেশি উপকরণের দিকেই ঝুঁকছেন। সেই তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে রয়েছে রিঠা (Reetha)। একসময় চুল পরিষ্কার করা কিংবা কাপড় কাচা ইত্যাদি নানা রকম কাজে নিয়মিত ব্যবহার করা হত এই ফল। রিঠার খোসায় থাকা স্যাপোনিন জলের সঙ্গে মিশে প্রাকৃতিকভাবে ফেনা তৈরি করে। ফলে সাবানের মতোই ময়লা ও তেল পরিষ্কারে এটি ভীষণ কার্যকরী। এই ফল উৎপাদন করা এমন কিছু কঠিন বিষয় নয়। চাইলেই বাজার থেকে রিঠা কিনে আনার বদলে বাড়িতেই এর গাছ তৈরি করা যায়।
বীজ থেকে কীভাবে তৈরি করবেন রিঠার চারা?
রিঠা গাছ লাগানোর জন্য পাকা ফল থেকে বীজ বের করে প্রথমে সেটাকে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর কয়েক দিন রোদে শুকিয়ে নিয়ে মাটিতে সেই বীজ রোপন করতে হবে। অসম ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের নার্সারি গাইড অনুযায়ী, পাকা রিঠার বীজ ২-৩ দিন রোদে শুকিয়ে নিয়েই বপন করা যায়। সাধারণত অঙ্কুর বের হতে প্রায় ৩০-৪০ দিন মত সময় লাগতে পারে। প্রথমে ছোট টব বা কন্টেনারে চারা তৈরি করলেও, পরে সেটিকে বড় জায়গায় স্থানান্তরিত করতে হবে। কারণ সময়ের সঙ্গে রিঠা বড় বলিষ্ঠ গাছে পরিণত হয়।
কেমন মাটি ও পরিবেশ দরকার?
রিঠা গাছের জন্য এমন মাটি বেছে নেওয়া দরকার যেখানে জল আটকে থাকে না। বাড়ির সাধারণ বাগানের মাটির সঙ্গে জৈব সার বা কম্পোস্ট মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। গাছের ভালো বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত রোদও প্রয়োজন হয়। প্রথম দিকে নিয়মিত মাটির আর্দ্রতার দিকে নজর রাখতে হবে। কিন্তু জল দেওয়ার সময় অতিরিক্ত জল দেওয়া চলবে না। টব বা মাটিতে জল জমে থাকলে শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বর্ষায় অতিরিক্ত জল বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা আগে থেকেই করে রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: জানেন পায়ের পাতায় রসুন ঘষলেই মুখে স্বাদ পাওয়া যায়? রইল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
গাছে ফল ধরার পর সেগুলি যখন পেকে যাবে, তখন ফলগুলি শুকিয়ে নিয়ে সংগ্রহ করে রাখা যায়। রিঠার খোসা জলে ভিজিয়ে বা ফুটিয়ে তৈরি করা যায় প্রাকৃতিক ক্লিনিং লিকুইড। এই জল চুল পরিষ্কার করার কাজে ভীষণ উপযোগী। শুধু তাই নয়, রিঠার প্রাকৃতিক স্যাপোনিনের কারণে কাপড় এবং বাড়ির কিছু জিনিস পরিষ্কার করতেও এটি কাজে লাগতে পারে। তবে চুলে প্রথমবার ব্যবহার করার আগে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো এবং চোখের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখাই মঙ্গল।










