নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: একেবারে নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মেরেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)! ট্রাম্প সরকারের শুল্ক ও বাণিজ্য নীতি সহ আমেরিকার উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বাণিজ্য অনিশ্চয়তার প্রভাব সরাসরি পড়েছে দেশটির চাকরির বাজারে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমেরিকায় মাত্র 57 হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। যা তুলনামূলক অনেকটাই কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত নীতি সংস্থাগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যার ফলে কোম্পানিগুলি নতুন কর্মী নিয়োগ থেকে আপাতত বিরত রয়েছে।

আমেরিকায় কমছে কর্মসংস্থানের সুযোগ!

মার্কিন শ্রম দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত মাসে অর্থাৎ জুনে আমেরিকায় মাত্র 57 হাজার মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের নিরিখে এই সংখ্যাটা গত মে মাসের তুলনায় অনেকটাই কম। এর অর্থ, মার্কিন সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে বড় ধরনের  কর্মী নিয়োগ থেকে আপাতত বিরত থাকছে।

এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের দাবি, আমেরিকায় উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশটিতে কর্পোরেট ব্যায় বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে সংস্থাগুলি বিনিয়োগ এবং নিয়োগ দুই ক্ষেত্রেই যথেষ্ট সতর্ক। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী বাণিজ্য এবং শিল্প নীতি আমেরিকায় সংস্থাগুলির ব্যবসায়ে নতুন সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে ক্রমবর্ধমান আমদানি শুল্ক এবং বাণিজ্যিক উত্তেজনা বহু সংস্থার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রভাবিত হচ্ছে চাকরির বাজার। আগের মতো কর্মী নিয়োগ তো দূরের কথা বরং ভবিষ্যতে পণ্যের চাহিদা নিয়েই অনিশ্চয়তায় বহু মার্কিন সংস্থা। বেশ কিছু কোম্পানি আবার কর্মী নিয়োগের বদলে কর্মীর ছটাই করতে শুরু করেছে। আর এই সব কিছুর পেছনে দায়ী করা হচ্ছে ট্রাম্পের শুল্ক ও বাণিজ্যে সংক্রান্ত নীতিকে। আমেরিকার বিরোধী দলগুলিও বারবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

অবশ্যই পড়ুন: ডিম, বেগুন খেয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চাইলেন মহুয়া, সারা দেবে আদালত?

প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে আমেরিকায় বেকারত্বের হার 4.3 শতাংশ থেকে কমে 4.2 শতাংশতে নেমে এসেছে। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি আমেরিকার জন্য ভাল লক্ষণ মনে হলেও এর গভীরে লুকিয়ে থাকা কারণ যথেষ্ট বিপদজনক! আসলে আমেরিকায় দীর্ঘদিন ধরে চাকরির চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দেওয়া শিক্ষিত যুবক, যুবতী যাঁরা আদতেই বেকারের তালিকায় থাকবেন ট্রাম্প প্রশাসন তাঁদের বেকার হিসেবে দেখায় না। এছাড়াও নতুন কাজ খুঁজতে খুঁজতে কাজ খোঁজা বন্ধ করে দেওয়া ব্যক্তিদেরও বেকারের তালিকায় রাখা হয় না। এভাবেই আমেরিকায় বেকারত্বের হার কমে যাচ্ছে এমনটা দেখাচ্ছে ট্রাম্প সরকার।