বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরানের সাথে হতে যাওয়া সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে এবার বড় বার্তা দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মার্কিন শাসক এবার একেবারে খোলাখুলি জানিয়েছেন, ইরানের সাথে সমঝোতা করতে হলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত 6টি মুসলিম দেশের উচিত হবে বিতর্কিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করে নেওয়া। মূলত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির জন্য এমন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি।
নিজের ট্রুথ সোশ্যালে বড় বার্তা ট্রাম্পের
গতকাল অর্থাৎ সোমবার, নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোসালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছিলেন, ইরানের সাথে আমেরিকার আলোচনা খুব ভালই এগোচ্ছে। আর তা সফল করার জন্যই একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এদিন সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট একেবারে স্পষ্ট করে জানান, ইরানের সাথে সমঝোতা যদি না হয়, সে ক্ষেত্রে আগের থেকেও বড় এবং শক্তিশালী যুদ্ধের পথে ফিরতে হবে।
শুধু তাই নয়, এর আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংকট কাটাতে মুসলিম দেশগুলিকে অবশ্যই একযোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করে নেওয়া উচিত। ট্রাম্প এদিন মূলত কাতার, পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং জর্ডানের নাম উল্লেখ করেন। সেই সাথে তিনি মনে করিয়ে দেন, সৌদি আরব এবং বাহরাইন ইতিমধ্যেই বিশেষ চুক্তিতে যোগ দিয়েছে। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পরই কার্যত বিপাকে পড়েছে মুসলিম দেশগুলি।
বলাই বাহুল্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পাকিস্তান। একটা সময় যে পাকিস্তান ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠেছিল, সেই পাকিস্তানের জন্যই মার্কিন শাসকের শর্ত কার্যত গলার ফাঁস হয়ে উঠলো! সম্প্রতি ট্রাম্পের প্রস্তাবে পাকিস্তান সরকারের অন্দরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে! পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খজা আসিফ আমেরিকার প্রেসিডেন্টের এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর একেবারে স্পষ্ট বক্তব্য, “ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের মূল ধারণা ও আদর্শের বিরুদ্ধে যে কোনও চুক্তিতে সম্পৃক্ত হওয়া উচিত হবে না।”

এদিন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সংযোজন ছিল, পাকিস্তান ইজরায়েলের সঙ্গে যেকোনও ধরনের প্লাটফর্ম শেয়ার করবে, এটা কোনভাবেই দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়! কম-বেশি প্রত্যেকেই জানেন, ইজরায়েলের সাথে একেবারে খাতায় কলমে শত্রুতা রয়েছে পাকিস্তানের। ইজরায়েল ছাড়া, বিশ্বের বহু দেশে পাকিস্তানিদের পাসপোর্ট বৈধ। এমতাবস্থায়, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়ে দিলে বিষয়টা পাক সরকার এবং সেনাবাহিনীর পক্ষে একপ্রকার আত্মসমর্পণ করার মতোই হবে।
অবশ্যই পড়ুন: পেট্রোল, ডিজেলের পর এবার দাম বাড়ল CNG-র
প্রসঙ্গত, 2020 সালে আব্রাহাম চুক্তি চালু হয়েছিল আমেরিকার উদ্যোগে। কয়েক দশকের পুরনো শত্রুতা দূর করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে গুঁড়িয়ে দিতে আরব দেশ ও ইজরায়েলের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য। আসলে এর মধ্যে দিয়ে মুসলিম দেশগুলি যাতে ইজরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছেন ট্রাম্প।










