‘আমেরিকাকে টাকা কামানোর জন্য ব্যবহার করছে’, ভারতকে ‘নরক’ আখ্যা দিয়ে চিঠি ট্রাম্পের

Published:

Donald Trump

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত ও আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই বিরাট ধাক্কা (India-United States Relations)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এবার এমন এক চিঠি শেয়ার করলেন, যেখানে ভারতকে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় তিনি আক্রমণ করেছেন। জন্মগত নাগরিকত্বের বিরোধিতা করতে গিয়ে ওই চিঠিতে ভারতকে ‘নরক’ বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং আন্তর্জাতিক মহলে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভের আগুন।

কী বলা হয়েছে ওই বিতর্কিত চিঠিতে?

জন্মগত নাগরিকত্ব আইনের তীব্র সমালোচনা করে চিঠিতে স্পষ্ট লেখা হয়েছে—আমেরিকার মাটিতে কোনও বিদেশী দম্পতির সন্তান জন্ম নিলেই সে সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক হয়ে যায়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তারা চিন, ভারত বা বিশ্বের অন্যান্য ‘নরক’ থেকে তাদের পুরো পরিবারকে এখানে নিয়ে আসে। এমনকি আরও দাবি করা হচ্ছে, বর্তমানে অভিবাসীরা আমেরিকার সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না, এবং তারা ইংরেজিতেও কথা বলতে চায় না। আর অভিবাসীদের আমেরিকার প্রতি কোনও আনুগত্য নেই বলেও অভিযোগ করা হয়।

এমনকি ওই চিঠিতে শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয় অভিবাসীদের প্রশংসা করা হলেও ভারত এবং চিনের থেকে আসা মানুষদের নিশানা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে লেখা হয়েছে—আইরিস, ইতালিয়ান বা পোলিশরা আমেরিকার মিশ্র সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। তবে বর্তমানের অভিবাসীরা আমেরিকাকে কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবেই দেখছে। এমনকি পরিস্থিতিকে আবর্জনার স্তূপের সঙ্গেও তুলনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে চিঠিটি শেয়ার করেছেন সেটি লিখেছেন কট্টর ডানপন্থী রেডিও হোস্ট তথা লেখক মাইকেল স্যাভেজ। বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য কুখ্যাত এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবেই পরিচিত। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শুরুতে তিনি প্রথম এই চিঠি প্রকাশ্যে এনেছিলেন। আর এবার তা স্বয়ং ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেই পোস্ট করে জনসমক্ষে জানিয়েছেন।.

আরও পড়ুন: তৃণমূল প্রার্থীকে দেখে চোর স্লোগান ভোটারদের, ডোমকলে তৃণমূল-সিপিএম সংঘর্ষে আহত ৪

ভারতের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?

উল্লেখ্য, ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত সম্পর্কের দিক থেকে ট্রাম্পের এই দাবি যে উদ্বেগের তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব যখন ভারতকে ‘নরক’ হিসেবে সম্বোধন করছেন, এমনকি তা জনসমক্ষে পোস্ট করছেন, তখন তা প্রবাসী ভারতীয়দের সম্মানে আঘাত দিতে পারে। বিশেষ করে আইটি বা অন্যান্য পেশার সঙ্গে নিযুক্ত লক্ষ লক্ষ ভারতীয় আমেরিকার বসবাস করেন এবং তারা সমানে দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। এমনকি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে জন্মগত নাগরিকত্ব নিয়েও একাধিক বিতর্ক চলছে। আর ট্রাম্পের এই পোস্ট সেই বিতর্ককে যেন আরও বাড়িয়ে দিল।