অনন্যা সরকার, কলকাতা: গগনচুম্বী অট্টালিকা, ঝকঝকে রাস্তা আর বিলাসবহুল গাড়ির শহর দুবাই, যা অনেকের কাছেই স্বপ্নপুরীর মতো। এবার এই বিলাসবহুল নগরীতে যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন বিস্ময়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকার একটি স্বর্ণখচিত হাঁটার পথ বা ‘গোল্ড ওয়াকওয়ে’ (Gold Walkway) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, যা বিশুদ্ধ ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি করা হবে। এই অভূতপূর্ব স্বর্ণালী পথটি ২০২৬ সালের শেষের দিকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।
দুবাইয়ে সোনার রাস্তার ওপর চলাচল করতে পারবেন সাধারণ মানুষ
এটি হতে চলেছে বিশ্বের প্রথম স্বর্ণখচিত হাঁটার পথ, যা পুরোপুরি ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি হবে। ‘দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’ (Dubai Gold District)-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি বিশ্বের দীর্ঘতম স্বর্ণখচিত হাঁটার পথ হিসেবেও স্বীকৃতি পাবে বলে আশা করা যায়। দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের কমার্শিয়াল ডিভিশনের সিনিয়র ডিরেক্টর রাশিদ আল হারমুদির কথায়, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের সম্পূর্ণ নতুন ও অনন্য এক অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া। এছাড়া, এই গোল্ড ওয়াকওয়ে স্বর্ণ বাণিজ্য ও পর্যটনের গ্লোবাল ডেস্টিনেশন হিসেবে দুবাইয়ের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।
স্বর্ণালঙ্কার নির্মাণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে দুবাই ইতিমধ্যেই সারা বিশ্বে বহুল জনপ্রিয়। উল্লেখ্য, জয়লুক্কাস জুয়েলারি (Joyalukkas Jewellery) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও ভারী ভারতীয় ‘ঝুমকো’ তৈরি করে দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছিল। এই দুলগুলি দুবাইতে প্রদর্শিত হয়। আল হারমুদি জানিয়েছেন যে, ‘গোল্ড ওয়াকওয়ে’ এমনভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি দর্শনার্থী একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে পারেন।
আরও পড়ুন: টেক্কা দেবে আম্বানির জিওকেও! বাজারে আসছে কার্লসবার্গ ইন্ডিয়ার IPO, কবে?
তবে এখনও পর্যন্ত এই হাঁটার পথের দৈর্ঘ্য, মোট ব্যয় কিংবা ঠিক কী পরিমাণ সোনা ব্যবহৃত হবে – সেসব বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট। দুবাই পশ্চিম এশিয়ায় স্বর্ণ ও অলঙ্কারের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। তাই অনুমান করা হচ্ছে এই স্বর্ণখচিত পথটি সম্ভবত সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
আরও পড়ুন: শেয়ার বাজারে পা রেখেই চমক! জিও প্ল্যাটফর্মসকে ঘিরে কেন এত উন্মাদনা জানেন?
প্রসঙ্গত, সোনা ও অলঙ্কার বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। আল হারমুদি বলেন যে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এই অঞ্চলে পাইকারি স্বর্ণ ব্যবসার কেন্দ্রটি ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গেই, সোনার গয়না, সোনার বার, কয়েন, মূল্যবান রত্নপাথর এবং বিলাসবহুল ঘড়ির রিটেইল আউটলেটের সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। আর সম্প্রসারণের কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে এই প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।










