বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এবার আমেরিকার (America) বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ভারতের (India)! সোজাভাবে বলতে গেলে কিউবার উপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিল ভারত । গতকাল অর্থাৎ বুধবার, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় এই বিশেষ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে অন্তত 130টি দেশ। ঠিক অন্যদিকে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে আমেরিকা, ইজরায়েল সহ মাত্র 17টি দেশ। এছাড়াও ভোট দান থেকে বিরত থেকেছে 25টি দেশ। তবে এসবের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কিউবার মতো ছোট দেশের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল দিল্লি।
কিউবার পাশে ভারত
বহুদিন ধরেই কিউবার উপর অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে আমেরিকা। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে দেশটির অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর। আর তা নিয়েই রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের প্রতিনিধি সৌম্যা নায়ার একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব এবং উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে, এমন আইন বা বিধি-নিষেদের বিরোধিতা করে ভারত।
রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের তরফে আরও জানানো হয়, যত দ্রুত সম্ভব কিউবার উপর থেকে সমস্ত রকমের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত আমেরিকার। এর ফলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অংশ নেওয়ার সাথে সাথে নিজেদের উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ করার সুযোগ পাবেন কিউবার মানুষজন। ভারত একেবারে স্পষ্ট করে আবারও জানিয়েছ, আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমে।
বলাই বাহুল্য, ভারতের পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবির প্রস্তাবের সমর্থনে বিশ্বের একাধিক পরিচিত এবং ক্ষমতাশালী দেশ ভোট দিলেও জার্মানি এবং ইতালির মতো দেশ ভোটদান থেকে বিরত থেকেছে। যেখানে এই দেশগুলিই এর আগে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বানকে সমর্থন করে এগিয়ে এসেছিল। তবে ঠিক কোন কারণে এবার ভোটদান থেকে পিছিয়ে আসলো তারা, তা জানা যায়নি।
আরও পড়ুন: ‘ভারত এখানে একাই রাজত্ব করবে!’ বিরাট দাবি পাকিস্তানের
প্রসঙ্গত, বিশেষজ্ঞ মহলের অনেকেই মনে করছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই প্রস্তাব বিপুল ভোট পেয়ে পাস হয়ে গেলেও কিউবার উপর থেকে এখনই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, সাধারণ সভার এই প্রস্তাব বাধ্যতামূলক নয় বলেই মনে করে নিউইয়র্ক! নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষমতা রয়েছে শুধুমাত্র মার্কিন কংগ্রেসের হাতে। জানিয়ে রাখি, গত বছর এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছিল 165টি। অর্থাৎ 165টি দেশ এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিল।










