অনন্যা সরকার, কলকাতা: ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলাকালীন সারা বিশ্ব হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) শক্তি ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিল। ইসরাইল ও আমেরিকার সাথে সংঘর্ষের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত এবার ভারত মহাসাগরে (Indian Ocean) নিজস্ব ‘হরমুজ প্রণালী’ নির্মাণের জন্য ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) সাথে হাত মিলিয়েছে। এটি হল সাবাং বন্দর (Sabang Port), মালাক্কা প্রণালীর (Strait of Malacca) প্রবেশপথে অবস্থিত। ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ইন্দিরা পয়েন্ট (Indira Point) এখান থেকে মাত্র ১০০ মাইল দূরে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার এই পদক্ষেপ ভারত মহাসাগরে চীনের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে সাবাং বন্দরের উন্নয়ন করবে
ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে সাবাং বন্দরের উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের সামুদ্রিক কৌশলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী (Narendra Modi) এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর (Prabowo Subianto) মধ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ করবে, যার ফলে এই দ্বীপে ভারতের উপস্থিতি আরও জোরদার হতে চলেছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগতভাবে জরুরি সমুদ্রপথ, মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশপথে সাবাং বন্দরটি অবস্থিত, তাই এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, সাবাং বন্দর ভারতের গ্রেট নিকোবার বন্দর প্রকল্প থেকে মাত্র ১০০ মাইল দূরেই রয়েছে, যা এটিকে এদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। প্রসঙ্গত, মালাক্কা প্রণালী ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে যুক্ত করে। কয়লা, পাম অয়েল, চীনা সামগ্রী এবং তেল সহ বিশ্বের ২৫ শতাংশ বাণিজ্যই এই প্রণালীর মাধ্যমের সংঘটিত হয়। ভারতের জন্য মালাক্কা প্রণালীর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও পড়ুনঃ দিঘার পাশেই ঝাউবন-ম্যানগ্রোভে ঘেরা এক লুকোনো সৈকত, ঘুরে আসুন কানাইচট্ট
চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সাথে ভারতের অধিকাংশ বাণিজ্য এই পথ ধরেই হয়। তাই ভারতের কয়লা, পেট্রোলিয়াম, কন্টেইনার ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতির বাণিজ্যের জন্য মালাক্কা প্রণালীকে এদেশের ‘লাইফলাইন’ বলা যায়। এটি অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির (Act East Policy)-এর অধীনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে সংযোগ স্থাপনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই, ভারত এখন ইন্দোনেশিয়ার সাথে যৌথভাবে মালাক্কা প্রণালীর মুখে অবস্থিত সাবাং দ্বীপটির উন্নয়ন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার চুক্তির শর্তগুলি
সাবাং বন্দরের উন্নয়নে এবং ইভিএম (EVM) তৈরিতে ইন্দোনেশিয়াকে সাহায্য করবে ভারত। এদিকে, ইন্দোনেশিয়া এদেশের ব্রাহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে বলে জানিয়েছে। এছাড়াও, রেয়ার আর্থ ম্যাটারিয়াল প্রজেক্ট, ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট সিস্টেম, টেলিযোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, মহাকাশ ও অন্যান্য ভবিষ্যৎমুখী কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবে বলেও সম্মতি প্রকাশ করেছে দুই দেশ।










