বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ক্ষমতায় আসতেই একগুচ্ছ বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন নেপালের (Nepal) প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। সেই সাথে প্রতিবেশী দেশটির প্রধানের কূটনৈতিক নীতি বা পররাষ্ট্র নীতি বেশ চর্চায় রয়েছে। নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি বিগত কয়েক দিন ধরে ভারত, আমেরিকা এবং ব্রিটেনের শীর্ষ কূটনীতিকদের থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে সরিয়ে রেখেছেন।
একই সাথে বালেন স্পষ্ট করে জানান, আগামী এক বছর তিনি কোনও বিদেশ সফর করবেন না। আসলে তিনি তাঁর নিজের দেশ নেপালকে ভারত, চিন এবং আমেরিকার মধ্যেকার ঝামেলার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে চান না। এদিকে বাস্তব অভিজ্ঞতা হল, নেপাল একটি সর্বভৌম দেশ হলেও তার অর্থনীতি থেকে শুরু করে অন্যান্য সামগ্রিক ক্ষেত্র এতটাও উন্নত নয় যে অন্য কোনও দেশের উপর তাদের নির্ভর করতে হবে না! কাজেই, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা সত্বেও প্রধানমন্ত্রীর এমন পররাষ্ট্র নীতির সমালোচনা করছেন নেপালিরাই!
রাষ্ট্রদূত এবং কূটনীতিকদের সাথে দেখা করেন বালেন
নেপাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়ার দায়িত্বে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সের্জিও গোরের পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করতে অস্বীকার করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে বালেন শাহের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক সমালোচনা। তবে এবার নিজের অনিচ্ছাকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রেখে আন্তর্জাতিক দূতদের সাথে দেখা করেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূত এবং কূটনীতদের একটি বড় প্রতিনিধি দলের সাথে কথা বলেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন। এদিন নেপালের প্রধানমন্ত্রী সাথে বৈঠকে বসতে পেরে আপ্লুত হয়েছিলেন প্রতিনিধিরা। তবে সূত্রের খবর, কূটনীতিকদের কথায় খুব একটা প্রভাবিত হননি বালেন শাহ।
এদিন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা জানিয়েছিলেন, “নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ পেলাম। এর জন্য আমরা খুব সম্মানিত।” একই প্রসঙ্গে সুইডিশ রাষ্ট্রদূত জন থেলসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “আমাদের দু’ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এ ধরনের বৈঠক এই প্রথম। গোটা বিষয়টা বেশ আকর্ষণীয় ছিল। আমরা পারস্পারিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে তুলতে চাই।”
ভারত এবং চিনের মধ্যে বাফার জোন হবে না নেপাল!
নেপালের কয়েকটি সূত্র দাবি করছে, নেপাল সরকার নাকি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা আর ভারত এবং চিনের মধ্যেকার বাফার স্টেট হিসেবে থাকতে চায় না। বরং নেপালকে একেবারে প্রাণবন্ত এবং প্রগতিশীল দেশ হিসেবে তুলে ধরতে চায়। নেপাল সরকারের একটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, ভারত এবং চিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নেপালকে মুক্ত ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
অবশ্যই পড়ুন: অ্যাকশন মুডে শুভেন্দু সরকার, অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার একাধিক
প্রসঙ্গত, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন এই মুহূর্তে যে নীতি নিয়ে চলছেন তাতে তিনি শুধুমাত্র তাঁর পছন্দের বিদেশি প্রতিনিধি বা ব্যক্তিদের সাথে দেখা করবেন। মূলত সে কারণেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ অন্যান্য দেশগুলির কূটনীতিক এবং প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করেন তিনি। যদিও নেপালের প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করছেন সে দেশের জনগণ। তাঁদের দাবি, নেপালের অর্থনীতি মজবুত নয়! প্রতিবেশী দেশগুলিকে ক্ষেপিয়ে এই ধরনের সিদ্ধান্ত! এতে আখেরে ক্ষতি হবে নেপালেরই।










