বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গাধা নিয়ে চিনের জালে পাকিস্তান! জানা যাচ্ছে, একটি চিনা সংস্থার তরফে পাকিস্তানে বিপুল পরিমাণ গাধার মাংস অর্ডার দেওয়া হয়েছিল (Pakistan-China Problem)। তবে সেই মাংস রপ্তানিতে বিলম্ব হওয়ায় পাকিস্তানকে কার্যত হুমকি দেয় ড্রাগনের দেশের সংস্থাটি। ট্রিবিউনের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের তরফে চিনের সংস্থাটিকে গাধার মাংস পাঠাতে দেরি হলে ড্রাগনের ওই সংস্থাটি একেবারে স্পষ্ট করে জানায়, মাংস রপ্তানিতে এমন বিলম্ব কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে পাকিস্তানে সমস্ত রকমের কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে তারা। আর এমন হুশিয়ারির পরই তড়িঘড়ি চিনে গাধার মাংস রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে পাক সরকার।
চিনের হুঁশিয়ারির পরই পথে এসেছে পাকিস্তান!
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত শুক্রবার, চিনের সংস্থা হুশিয়ারি দেওয়ার পরেই তড়িঘড়ি পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দপ্তরের হস্তক্ষেপে গাধার মাংস রপ্তানিতে তৈরি হওয়ার সমস্যার সমাধান হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বার্তা আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার অনুমোদন মেলে। আর তারপরেই পাকিস্তানের প্রাণী সঙ্গনিরোধ বিভাগও মাংস রপ্তানিতে অনুমতি দেয়।
কয়েকটি রিপোর্ট বলছে, চিনের সংস্থাটির তরফে কয়েক মাস আগেই পাকিস্তানে গাধার মাংসের অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। তবে বিগত কয়েক মাস ধরে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও পাঠানো হয়নি মাংস। মূলত সে কারণেই সংস্থাটি ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি একেবারে হুমকি দিয়ে বলে, পাকিস্তান যদি মাংস পাঠাতে আরও দেরি করে সেক্ষেত্রে সে দেশে সমস্ত রকমের কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে তারা। একই সাথে অন্যান্য চিনা সংস্থাগুলিকেও সতর্ক করে ওই কোম্পানির জানায়, পাকিস্তানের কাজ শুরুর আগে তারা যেন কয়েকশো বার ভাবে!
বলাই বাহুল্য, চিনের সংস্থা মেসার্স হ্যাংগেং ট্রেড কোম্পানিটি গত পহেলা মে একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিল, বাজার বহির্ভূত কারণ এবং পরিচালনগত সীমাবদ্ধতার কারণে তারা পাকিস্তানে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে না। কোম্পানিটি পাকিস্তানে সব রকম কাজ বন্ধ করে দিতে পারে। কার্যত এমন হুমকির পরই তড়িঘড়ি শুক্রবার পাক সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের পরেই শনিবার মাঝরাত থেকেই চিনের সংস্থাটিকে গাধার মাংস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেই খবর।
অবশ্যই পড়ুন: বিহারে গঙ্গায় তলিয়ে গেল বিক্রমশিলা সেতুর একাংশ, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ
প্রসঙ্গত, চিনে পাকিস্তানি গাধার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শুধুমাত্র মাংস নয় বরং গাধার চামড়াও চিনে নানান কাজে লাগে। বিশেষ পাকিস্তান থেকে আমদানি করা গাধাগুলির চামড়া দিয়ে চিনে নানান ধরনের ওষুধ তৈরি হয়। এগুলির মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী চিনা ওষুধের নাম এজিয়াও। এই ওষুধ মূলত মানবদেহে শক্তি বাড়াতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং টিউমার ও রক্তপাতের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়।










