বিহারে গঙ্গায় তলিয়ে গেল বিক্রমশিলা সেতুর একাংশ, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ

Published:

Vikramshila Bridge

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল বিহারের সেতু বিড়ম্বনা। মধ্য রাতে ভেঙে পড়ল বিহারের (Bihar) সঙ্গে সীমাঞ্চলের যোগাযোগকারী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিক্রমশীলা সেতুর (Vikramshila Bridge) স্তম্ভ। চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি এলাকায়। সেতুর স্তম্ভ ভেঙে যাওয়ায় আপাতত বন্ধ গাড়ি চলাচল। ঘটনাস্থলে হাজির সেতু নির্মাণকারী ইঞ্জিনিয়াররা। প্রাণহানির কোনো খবর এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ রবিবার, রাতে বিহারের ভাগলপুরে গঙ্গার উপর নির্মিত বিক্রমশীলা সেতুতে একটি ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটে। রাত প্রায় ১টা ১০ মিনিটের দিকে সেতুর ১৩৩ নম্বর স্তম্ভটি ধসে পড়ে এবং তার উপর থাকা অংশটি সম্পূর্ণভাবে গঙ্গায় ডুবে যায়। এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। জানা গিয়েছে খবর পৌঁছাতেই সেখানকার পুলিশ দ্রুততার সথে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এদিকে সেতুটি ধসে পড়ায় ঘটনাস্থলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। এইমুহুর্তে নওগাছিয়া ও ভাগলপুরের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

৩৩ মিটার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত

সেতু ভাঙার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিল সেতু নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত ইঞ্জিনিয়াররা। পুরো ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে তাঁরা জানান সেতুটির প্রায় ৩৩ মিটার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে এইমুহুর্তে সেতুটি মেরামত করা অত্যন্ত কঠিন। তাইয়া আপাতত যান চলাচল স্বাভাবিক হতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। এদিকে সেতু ধসে পড়ার পর ভাগলপুরে যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনতে প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘোংঘা, সবোর, জগদীশপুর ও কাজরেলির মতো এলাকায় আপাতত ভারী যানবাহন আটকে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ডাবল জেনারেটর, অতিরিক্ত ৭০০০ কর্মী, লোডশেডিং ঠেকাতে ব্যবস্থা WBSEDCL-র

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে উদ্বোধন হওয়া প্রায় ৪.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বিক্রমশিলা সেতুটি উত্তর ও দক্ষিণ বিহারকে যুক্ত করার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে পণ্য পরিবহণের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চাপ এবং পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতুটির অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এদিকে ভাগলপুরের সঙ্গে নওগাছিয়ার সংযোগকারী এই সেতু দিয়ে প্রতি দিন প্রচুর মানুষ যাতায়াত করেন। শুধু তা-ই নয়, ছোট, বড় অনেক গাড়িও চলে। এই অবস্থায় আশঙ্কার মাঝেই ঘটে গেল এই বড় দুর্ঘটনা।