ভারত সিন্ধুর জল বন্ধ করায় হাহাকার, রাষ্ট্রপুঞ্জে কাকুতিমিনতি পাকিস্তানের

Published:

Indus Waters Treaty

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একে তো আর্থিক সংকটে দেউলিয়া, তার উপর আবার জলের হাহাকার! হ্যাঁ, ভারতের জল কূটনীতির দাপটে কোনঠাসা পাকিস্তান (Pakistan) এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দ্বারস্থ হয়েছে। গত বছর ভারত অস্থায়ীভাবে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত করে দিয়েছিল। তবে তারপর থেকেই প্রতিবেশী দেশে জলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। আর এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ সভায় ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ ঠুকে এসেছে ইসলামাবাদ।

রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের কাকুতিমিনতি

রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি অসীম ইফতিকার আহমেদ জানাচ্ছেন, তাঁদের বিদেশ মন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ চিঠি নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, ভারত এই চুক্তি স্থগিত রাখার কারণে ওই অঞ্চলে তীব্র জল সংকট তৈরি হতে পারে। এমনকি ভারতের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলে দাবি করছে ইসলামাবাদ।

কেন জল বন্ধ করেছিল ভারত?

বলে দিই, এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছর। গত ২২ এপ্রিল ২০২৫ পহেলগাঁওতে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারান। তদন্তে জানা যায়, এই হামলার নেপথ্যে ছিল পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন। ঠিক তার পরেই ভারত সরকার ৭ মে অপারেশন সিঁদুর চালায় এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সিন্ধু জলচুক্তি বন্ধ করে দেয়। ভারতের স্পষ্ট শর্ত ছিল—রক্ত আর জল একসঙ্গে কোনও ভাবেই বইতে পারে না।

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে হওয়া এই সিন্ধু জলচুক্তি তিনটি বিরাট যুদ্ধ ও কারগিল সংঘর্ষের সময়ও অটুট ছিল। তবে দীর্ঘ ৬৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ভারত জলকেই হাতিয়ার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে পাকিস্তান উচিৎ শিক্ষা পেয়েছে, এবং হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে যে সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাস বন্ধ না করলে তাদের জাতীয় জীবনরেখা বা সিন্ধু নদের জলের অধিকারও সম্পূর্ণভাবে হারাতে হতে পারে।

আরও পড়ুন: জাহাজে ফের হামলা হলে ইরানকে পাল্টা দেবে ভারতও? হরমুজ নিয়ে বড় বয়ান নৌসেনার

তবে ভারতের এই কড়া অবস্থানের পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পরমাণু যুদ্ধের হুমকিও দেওয়া হয়। এমনকি ভারতের বাঁধগুলির উপর হামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও হুমকির মুখে পড়ে নীতি বদল করা হবে না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং ক্রমাগত জঙ্গি হামলার জেরে ভারতের এই সিদ্ধান্ত বৈধ বলেই জানাচ্ছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি ভারত তার অবস্থানে অনড় থাকবে বলেই জানিয়েছে।